ছেলের অত্যাচারে চুপ থাকা মানেই শ্বশুর-শাশুড়ি অপরাধী নন: হাইকোর্ট
ছেলের অত্যাচারে লাগাম পরাতে ব্যর্থ হওয়া মানেই শ্বশুর-শাশুড়ির নিষ্ঠুরতা বা অপরাধ নয়। বধূ নির্যাতনের একটি মামলা খারিজ করে এমনই তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ জানাল কলকাতা হাইকোর্ট। অস্পষ্ট ও সাধারণ অভিযোগের ভিত্তিতে স্বামী ছাড়া অন্য আত্মীয়দের বিরুদ্ধে ৪৯৮(এ) ধারায় মামলা চালানোকে ‘আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার’ বলে মন্তব্য করেছেন বিচারপতি শম্পা দত্ত (পাল)।
কী ঘটেছিল? ২০২১ সালে বেলঘরিয়া থানায় এক গৃহবধূ তাঁর মৃত স্বামীর পরিবারের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮ (এ), ৪০৬ এবং ৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল:
- বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে তাঁর উপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালাতেন তাঁর মাদকাসক্ত স্বামী।
- তাঁকে জোর করে মদ খাওয়ানো হতো এবং নিয়মিত মারধর করা হতো।
- পরবর্তীতে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়।
শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগ: ওই বধূর দাবি ছিল, ছেলে দিনের পর দিন পাশবিক অত্যাচার করলেও শ্বশুর-শাশুড়ি তা আটকাতে কোনও পদক্ষেপ করেননি। এই মামলাতেই শ্বশুর-শাশুড়ি এবং আরও দু’জন ব্যক্তি হাইকোর্টে মামলা খারিজের আবেদন জানান। উল্লেখ্য, বাকি দুই অভিযুক্তের একজন ছিলেন গাড়ির চালক ও অন্যজন ল্যাবরেটরি কর্মী, যাঁরা ওই পরিবারের আত্মীয়ও নন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও রায়: নথি ও কেস ডায়েরি খতিয়ে দেখে হাইকোর্ট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করেছে:
- মূল অভিযুক্ত স্বামী: অভিযোগের কেন্দ্রে ছিলেন ওই বধূর স্বামী। শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি অত্যন্ত সাধারণ ও অস্পষ্ট।
- আত্মীয়দের অব্যাহতি: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কথা মনে করিয়ে দিয়ে হাইকোর্ট জানায়, দাম্পত্য কলহের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাব থাকলে শুধুমাত্র ঢালাও অভিযোগের ভিত্তিতে আত্মীয়দের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চালানো উচিত নয়।
- অন্যদের ক্ষেত্রে আইন: বাকি দুই অভিযুক্ত যেহেতু পরিবারের আত্মীয়ই নন, তাই তাঁদের বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতনের ৪৯৮(এ) ধারা এমনিতেই প্রযোজ্য নয়।
বিচারপতি শম্পা দত্ত (পাল) স্পষ্ট জানান, শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে কোনও অপরাধের উপাদান নেই। ফলে এই মামলা চালিয়ে যাওয়া আইনের অপব্যবহার ছাড়া আর কিছুই নয়। এই যুক্তিতেই অভিযুক্ত চার জনের বিরুদ্ধেই দায়ের হওয়া মামলাটি সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।