এল নিনোর ছোবলে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভারত, হু-এর কড়া সতর্কবার্তা!

এল নিনোর ছোবলে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভারত, হু-এর কড়া সতর্কবার্তা!

বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে ‘এল নিনো’। তাপমাত্রার এই অস্বাভাবিক তারতম্য এবং চরম আবহাওয়া বিশ্বজুড়ে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে কড়া সতর্কবার্তা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, এল নিনোর জেরে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে থাকা দেশগুলির তালিকার একেবারে সামনের সারিতে রয়েছে ভারত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক ‘গ্লোবাল পাবলিক হেলথ সিচুয়েশন অ্যানালিসিস- এল নিনো ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এল নিনোর প্রভাবে অতিরিক্ত দাবদাহ, খরা এবং বন্যার মতো চরম পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এর ফলে মশাবাহিত রোগসহ বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধি অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। হু-এর এই সতর্কবার্তার মাঝেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যে মশাবাহিত রোগের প্রকোপ মাথাচাড়া দিতে শুরু করেছে। শুধু গত আগস্ট মাসেই দিল্লিতে নতুন করে ৯০ জন ডেঙ্গু আক্রান্তের হদিশ মিলেছে, যার ফলে বর্ষার মরশুমে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে তিনশো। পাশাপাশি, জুলাই মাসের তুলনায় আগস্টে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যাও লাফিয়ে বেড়েছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলের জলভাগ অস্বাভাবিক উত্তপ্ত হলে এই ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা স্বাভাবিক আবহাওয়ার গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে দেয়। ভূবিজ্ঞান মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষের দিকে এই এল নিনো পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী হয়ে অত্যন্ত উগ্র রূপ ধারণ করতে পারে এবং আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত এর প্রভাব বজায় থাকতে পারে। উচ্চ তাপমাত্রা এবং বিক্ষিপ্ত ও অনিয়মিত বৃষ্টির জেরে যত্রতত্র জল জমে মশার বংশবৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়, যা ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগ ছড়াতে সাহায্য করে।

চলতি বর্ষায় স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত, এল নিনোর প্রভাব এবং অতিরিক্ত উষ্ণতার এই বিপজ্জনক মিশ্রণ কেবল জনস্বাস্থ্যকেই নয়, দেশের কৃষি ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ এবং সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তাকেও এক বিরাট সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *