৭০ লাখের ইনাম স্রেফ নাটক? পাকিস্তানের চরম ধোঁকাবাজি ফাঁস করল ভারতীয় গোয়েন্দারা

আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের কাছে কোণঠাসা হয়ে এবার আত্মরক্ষার নতুন চাল চালল পাকিস্তান। নিজেদের পিঠ বাঁচাতে এবং বিশ্বমঞ্চের চোখে ধুলো দিতে জইশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারকে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ ঘোষণা করেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (FIA) তাদের ২০২৬ সালের নতুন ‘রেড বুক’ প্রকাশ করে মাসুদের মাথার দাম ২০ লক্ষ থেকে বাড়িয়ে ৭০ লক্ষ পাকিস্তানি রুপি নির্ধারণ করেছে।
তবে ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক গোয়েন্দাদের দাবি, এটি পাকিস্তানের একটি পরিকল্পিত আইওয়াশ। আগামী অক্টোবরে বসতে যাওয়া ‘ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স’ (FATF)-এর বৈঠক থেকে বাঁচতেই শরিফ সরকার তাড়াহুড়ো করে এই তালিকা সামনে এনেছে।
আফগানিস্তান নয়, সিন্ধেই বহাল তবিয়তে মাসুদ ২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বই হামলার মূল চক্রান্তকারী মাসুদ আজহারকে নিয়ে পাকিস্তান এতদিন দাবি করে আসছিল যে সে দেশ ছেড়ে আফগানিস্তানে পালিয়ে গিয়েছে। কিন্তু গত ছয় মাসে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি আধুনিক প্রযুক্তি ও সিগন্যাল অ্যানালিসিসের মাধ্যমে পাকিস্তানের এই মিথ্যা দাবি পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে। ভারতীয় গোয়েন্দারা নিশ্চিত করেছেন, মাসুদ আজহার আফগানিস্তানে নয়, বরং পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের নবাবশাহ শহরে নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে নিজের জঙ্গি নেটওয়ার্ক চালিয়ে যাচ্ছে।
রেড বুক ও পাকিস্তানের দ্বিমুখী নীতি এফআইএ-র নতুন তালিকায় ২৬/১১ হামলার সঙ্গে যুক্ত ১৯ জন জঙ্গির নাম থাকলেও তাতে স্পষ্ট ধরা পড়েছে পাকিস্তানের চরম কারচুপি:
- তথ্য গোপন: তালিকায় ১৯ জনের মধ্যে ১৭ জনের ছবি ও বিস্তারিত তথ্য থাকলেও, লস্কর-ই-তইবা সমর্থিত দুই জঙ্গি (মুহম্মদ খান ও আবদুল রেহমান)-এর ছবি ও অপরাধের বিবরণ রহস্যজনকভাবে মুছে ফেলা হয়েছে।
- মাস্টারমাইন্ডদের আশ্রয়: মুম্বই হামলায় জলপথে ঢোকা এবং কোটি কোটি টাকার আর্থিক ও প্রযুক্তিগত মদত দেওয়া লস্কর জঙ্গিরা এখনও পাকিস্তানের মুলতান, লাহোর ও করাচিতে খোলা আকাশের নিচে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
গত ১৮ বছর ধরে যে ১৭ জন আসামিকে নথিপত্রে ‘পলাতক’ দেখাচ্ছে পাকিস্তান, তারা প্রত্যেকেই পাক প্রশাসনের আশ্রয়ে রয়েছে। FATF-এর সম্ভাব্য আর্থিক নিষেধাজ্ঞা ও ‘গ্রে লিস্ট’ থেকে বাঁচতে ইসলামাবাদ যে পুরনো চিত্রনাট্যেই ফের অভিনয় করছে, তা তাদের এই অসংলগ্ন ‘রেড বুক’ থেকেই পরিষ্কার।