শালবনি জালিয়াতি: সিআইডির নজরে কোটি টাকার ‘মানি ট্রেল’, বাড়ছে সুমিত রায়ের অস্বস্তি!

শালবনি জালিয়াতি: সিআইডির নজরে কোটি টাকার ‘মানি ট্রেল’, বাড়ছে সুমিত রায়ের অস্বস্তি!

শালবনি জমি জালিয়াতি কাণ্ডের তদন্তে নেমে এক সুসংগঠিত অপরাধ চক্রের সন্ধান পেল রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা (CID)। এতদিন কেবল বেআইনি দখল ও ভুয়া নথিপত্র তৈরির ওপর নজর থাকলেও, তদন্তকারীদের প্রধান লক্ষ্য এখন কোটি কোটি টাকার ‘মানি ট্রেল’ বা আর্থিক গতিপথ। সিআইডির দাবি, উদ্বাস্তুদের জন্য বরাদ্দ জমি হাতবদল করে উপার্জিত অর্থের একটা বড় অংশ সরাসরি পৌঁছে যেত তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত-সহায়ক সুমিত রায়ের দফতরে।

যেভাবে চলত এই অপরাধ চক্র:

  • পরিকল্পিত জালিয়াতি: প্রথমে এলাকায় উদ্বাস্তুদের সরকারি জমি চিহ্নিত করে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করা হতো। এরপর তা চড়া দামে বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হতো।
  • টাকা বণ্টন: অর্জিত অর্থের এক-তৃতীয়াংশ স্থানীয় স্তরে ভাগ করে বাকি সিংহভাগ অর্থ পাঠিয়ে দেওয়া হতো প্রভাবশালী মহলে।

সাক্ষীদের বিস্ফোরক দাবি:

  • গ্রামবাসীদের সাক্ষ্য: সৈয়দপুর গ্রামের বাসিন্দারা সিআইডিকে নিশ্চিত করেছেন যে প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা ও সুমিত রায়ের মধ্যে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন চলত।
  • মধ্যস্থতাকারীদের স্বীকারোক্তি: সুজয় হাজরার হয়ে কাজ করা দুজন প্রতিনিধি জেরায় মেনে নিয়েছেন যে জমি বিক্রির টাকা তাঁরা নিয়মিত সুমিত রায়ের অফিসে পৌঁছে দিতেন।
  • নিরাপত্তারক্ষীদের বয়ান: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুই প্রাক্তন নিরাপত্তারক্ষীর (PSO) লিখিত বয়ানেও সুমিত রায়ের সক্রিয় ভূমিকার ইঙ্গিত মিলেছে।

গোয়েন্দাদের মূল নজর এখন ‘টাকার গন্তব্যে’: টাকা নগদে দেওয়া হয়েছিল নাকি অনলাইন মাধ্যমে? কোন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে কার নির্দেশে এই ট্রানজ্যাকশনগুলো সম্পাদিত হয়েছে, বাজেয়াপ্ত নথি ও বয়ান মিলিয়ে এখন সেই হিসাব কষছেন সিআইডি কর্তারা। গোয়েন্দাদের এই তৎপরতায় স্পষ্ট, শালবনি-কাণ্ডের শিকড় অনেক গভীরে এবং দ্রুতই বড় মাথার নাম প্রকাশ্যে আসতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *