‘মঙ্গল গ্রহের বিজেপি হতে পারে!’ দলবদলের দাবিতে সপাট জবাব শমীকের
তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই (NCPI)-তে যোগ দেওয়া ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনার মাঝেই নতুন বিতর্ক উস্কে দিলেন কোচবিহারের সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বসুনিয়া। সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, এনসিপিআই-এর ২০ জন সাংসদের মধ্যে মুর্শিদাবাদের ৩ জন সংখ্যালঘু সাংসদকে বাদ দিয়ে বাকি ১৭ জন খুব শীঘ্রই বিজেপিতে যোগ দেবেন। তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।
জগদীশের বিস্ফোরক রোডম্যাপ কোচবিহারে নিজের বাড়ির সামনে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও হিংসার ঘটনার পর সাংবাদিকদের ডেকে জগদীশ দাবি করেন, আগে শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে তাঁদের বৈঠক হয়েছিল। তাঁর দাবি অনুযায়ী, আইনি জটিলতা এড়াতে আপাতত তাঁরা এনসিপিআই-তে মার্জ করলেও মূল লক্ষ্য বিজেপিতে যোগদান। মুর্শিদাবাদের তিন সাংসদকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্ব দেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
বিজেপির সপাট প্রত্যাখ্যান জগদীশের এই দাবি একলহমায় উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “যে বিজেপিতে ওঁরা যোগ দিতে চাইছেন, সেটা হয়তো মঙ্গল গ্রহের বিজেপি ইউনিট। ২০২১-এর ভোট-পরবর্তী হিংসা বিজেপি ভোলেনি। ৩ জনকে নেওয়া হয়েছে বলে ২৩ জনকেই নেওয়া হবে, এমন ভাবার কোনও কারণ নেই।”
এনসিপিআই শিবিরে অসন্তোষ ও ফাটল জগদীশের এই মন্তব্যকে তাঁর ‘ব্যক্তিগত মতামত’ বলে দায় এড়িয়েছেন দলের বর্ষীয়ান সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার ও শতাব্দী রায়। তবে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের খান। তিনি স্পষ্ট জানান, “জগদীশ আমাদের মুখপাত্র নন। আমরা এনডিএ বা বিজেপি— কোথাও যাব না।”
কুণাল-ঋতব্রত তরজা এই পরিস্থিতিকে ঘিরে তৃণমূলের কালীঘাট শিবিরের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, “এরা চরম সুবিধাবাদী ও বেইমান। জগদীশ নিজে এক দলে, আর তাঁর স্ত্রী অন্য দলে।” পাল্টা জবাবে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্মরণ করিয়ে দেন, “সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এনসিপিআই-তে থাকলেও তাঁর স্ত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় তো কালীঘাটের সঙ্গেই আছেন।”
সুপ্রিম কোর্টে দলত্যাগ মামলার শুনানি এবং দলের প্রতীক নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে জগদীশের এই মন্তব্য বিদ্রোহী শিবিরের অন্দরের ফাটলকে আরও স্পষ্ট করে দিল।