নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে মুখোমুখি লড়াই! ‘ঘাসফুল’ কি হাতছাড়া হচ্ছে কালীঘাটের?

আগামী ৬ই অক্টোবর রাজ্যের দুই হাইভোল্টেজ কেন্দ্র—নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে হতে চলেছে উপনির্বাচন। ১৬ই সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমার শেষ দিনের ঠিক আগেই জোড়া প্রার্থী ঘোষণা করে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের বিদ্রোহী অংশ। তৃণমূল ভবনে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে দলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন তিনি।
দুই শিবিরের প্রার্থী তালিকা:
- ঋতব্রত শিবির:
- নন্দীগ্রাম: মহম্মদ এহেতাশ মুল হক
- রেজিনগর: শেখ সফিউদ্দিন জামান
- কালীঘাট (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) শিবির:
- নন্দীগ্রাম: সঞ্চিতা প্রধান দে
- রেজিনগর: রবিউল আলম চৌধুরী
প্রার্থী ঘোষণা সম্পন্ন হলেও দুই শিবিরের মূল আইনি লড়াই শুরু হয়েছে দলীয় প্রতীক ‘জোড়াফুল’ নিয়ে। প্রতীকটির প্রকৃত মালিকানা কার—কালীঘাট নাকি ঋতব্রত শিবিরের—তা নিয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত রায় দেয়নি নির্বাচন কমিশন। গত শনিবার উভয় পক্ষকেই অতিরিক্ত নথিপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের সম্ভাব্য পদক্ষেপ:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে জোড়াফুল বিতর্ক মেটাতে নির্বাচন কমিশন প্রধানত দুটি সিদ্ধান্ত নিতে পারে:
- প্রতীক ফ্রিজ করা: সমাধান না হলে নির্বাচন কমিশন অস্থায়ীভাবে ‘জোড়াফুল’ প্রতীকটি বাজেয়াপ্ত করতে পারে। সে ক্ষেত্রে উভয় পক্ষকেই নতুন নাম ও ভিন্ন প্রতীক নিয়ে ভোটে লড়তে হবে।
- যেকোনো একপক্ষকে স্বত্ব দেওয়া: জমা পড়া নথি পর্যালোচনা করে যেকোনো এক শিবিরকে মূল প্রতীক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। সূত্রের খবর, প্রয়োজনীয় নথিপত্রের দৌড়ে কালীঘাট শিবির আপাতত কিছুটা এগিয়ে রয়েছে।
এখন পুরো বঙ্গ রাজনীতির নজর নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তীকালীন সিদ্ধান্তের দিকে। উপনির্বাচনের ময়দানে কার হাতে থাকে ‘জোড়াফুল’ আর কাকেই বা নতুন চিহ্নে লড়তে হয়, সেটাই দেখার।