বাম-আইএসএফ জোটে বড় ফাটল: নন্দীগ্রামে একা লড়ার ঘোষণা নওশাদের

রাজ্যের আসন্ন উপনির্বাচনকে ঘিরে বামফ্রন্ট ও ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের (ISF) জোট সমীকরণে বড়সড় ভাঙন স্পষ্ট হলো। বাম নেতৃত্ব একতরফাভাবে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে সিপিএমের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।
যোগাযোগের চেষ্টা ও অভিযোগের সারসংক্ষেপ
নওশাদ সিদ্দিকীর দাবি, নির্বাচনে সমঝোতা বজায় রাখার স্বার্থে দলগতভাবে একাধিকবার আলিমুদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল:
- উত্তরহীন চিঠি: জোটের ভবিষ্যৎ আলোচনা করতে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুকে পরপর তিনটি চিঠি পাঠানো হলেও কোনো জবাব আসেনি।
- ফোন ব্যর্থ: পরবর্তীতে আলিমুদ্দিনে ফোন করা হলে জানানো হয়, অসুস্থতার কারণে বিমান বসুকে কথা বলতে নিষেধ করেছেন চিকিৎসকরা।
- অধরা প্রতিশ্রুতি: সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে কথা বললে তিনি পরবর্তী বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার আশ্বাস দেন। তবে কোনো দ্বিপাক্ষিক বৈঠক না করেই শেষ পর্যন্ত একতরফা প্রার্থী ঘোষণা করে সিপিএম।
উপনির্বাচনে আইএসএফ-এর কৌশলগত অবস্থান
সিপিএমের এই সিদ্ধান্তকে জোট এড়িয়ে চলার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে আইএসএফ। ফলে নিজস্ব অবস্থান স্পষ্ট করে নওশাদ জানান:
- নন্দীগ্রাম: পূর্বে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কারণে নিজেদের রাজনৈতিক নীতি বজায় রেখে এককভাবেই প্রার্থী দেবে আইএসএফ।
- রেজিনগর: এই কেন্দ্রটিতে দল থেকে কোনো প্রার্থী দাঁড় করানো হবে না।
জনতার আদালতে সওয়াল
কোনো আলোচনা ছাড়াই প্রার্থী নামিয়ে বামফ্রন্টই জোটের অস্তিত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে বলে অভিযোগ নওশাদের। তাঁর বক্তব্য, আইএসএফ নিজ থেকে ফ্রন্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে, নাকি ষোড়যন্ত্র করে তাদের বের করে দেওয়া হলো—এর চূড়ান্ত বিচার করবেন রাজ্যের রাজনৈতিক সচেতন নাগরিকরাই। এই আকস্মিক সংঘাতের ফলে উপনির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি হলো।