গাজোলে প্রাক-প্রাথমিকের ছাত্রীকে চরম নির্যাতন, গণপিটুনিতে প্রহৃত প্রধান শিক্ষক
গাজোল (মালদা): মালদার গাজোলে সরকারি প্রাথমিক স্কুলের শৌচালয় সংলগ্ন ঘর থেকে চার বছরের এক প্রাক-প্রাথমিক ছাত্রীকে টেনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ উঠল এক প্রৌঢ়ের বিরুদ্ধে। অত্যন্ত সঙ্কটজনক অবস্থায় শিশুটি বর্তমানে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর গা ঢাকা দিলেও মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ অভিযুক্তকে পকসো (POCSO) আইনে গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদিকে, ক্রমাগত অভিযোগ পাওয়া সত্ত্বেও নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও গ্রামবাসীরা স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং এক সহকারী শিক্ষককে গণপিটুনি দিয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ স্কুলের দরজাহীন শৌচালয়টির ঠিক লাগোয়া অভিযুক্ত প্রৌঢ়ের বাড়ি। অভিযোগ, গত ১৫ দিন ধরে শৌচালয়ে যাওয়া একাধিক ছাত্রীকে ছুরি দেখিয়ে ভয় দেখিয়ে যৌন নির্যাতন চালাচ্ছিলেন ওই প্রৌঢ়। সোমবার সকালে ওই স্কুলেরই মিড-ডে মিলের রাঁধুনি মায়ের চার বছরের শিশুকন্যা শৌচালয়ে গেলে তাকে টেনে-হিঁচড়ে নিজের ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে অভিযুক্ত। পরে বাথরুমের সামনে রক্তাক্ত ও অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয় শিশুটিকে। হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পর শিশুটি নির্যাতনকারীর নাম প্রকাশ করে।
প্রধান শিক্ষকের নিষ্ক্রিয়তা ও জনতার ক্ষোভ অভিভাবকদের দাবি, বিগত দুই সপ্তাহ ধরে অভিযুক্তের এই অপরাধমূলক আচরণের বিষয়ে প্রধান শিক্ষককে বারবার জানানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি পুলিশে খবর না দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া ও আপসে মিটিয়ে নেওয়ার সুপারিশ করেন। মঙ্গলবার সকালে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা ফের প্রধান শিক্ষকের কাছে গেলে তিনি দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ। এরপরেই জনরোষ ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্ষিপ্ত জনতা প্রধান শিক্ষক ও এক সহকারী শিক্ষককে মারধর করে। আহত দু’জন বর্তমানে গাজোল গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশি পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক প্রতিবাদ উত্তেজনার খবর পেয়ে স্কুলে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান মালদা জেলা পরিষদের সদস্যা তথা বিজেপি নেত্রী বিনা সরকার কীর্তনীয়া। তিনি অপরাধীকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। গাজোল থানা সূত্রে জানানো হয়েছে, নির্যাতিতা শিশুর মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গোপন আস্তানা থেকে অভিযুক্ত প্রৌঢ়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটির আইনি তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।