‘জোড়া ফুল’ অতীত! নতুন প্রতীক পেয়েই নন্দীগ্রামে মমতার বিশাল ‘মাস্টারস্ট্রোক’

‘জোড়া ফুল’ অতীত! নতুন প্রতীক পেয়েই নন্দীগ্রামে মমতার বিশাল ‘মাস্টারস্ট্রোক’

রাজ্য রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড়! নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এক ধাক্কায় বদলে গেল দীর্ঘ ২৮ বছরের রাজনৈতিক পরিচিতি। হাতছাড়া হলো ঐতিহ্যবাহী ‘জোড়া ফুল’ প্রতীক এবং মূল দলের নাম। তবে এই বিশাল ধাক্কা সামলে নতুন নাম ও প্রতীক হাতে পেতেই নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে এক অপ্রত্যাশিত রাজনৈতিক ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

“মা সন্তানকে হারালে যে যন্ত্রণা হয়…”

নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর সাংবাদিক সম্মেলনে গভীর ক্ষোভ ও আবেগ প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই দিনটিকে ‘ব্ল্যাক ডে’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “জোড়া ফুল প্রতীক হারানোর যন্ত্রণা ঠিক মা সন্তানকে হারানোর মতো। কাল সারারাত আমাদের কর্মী-সমর্থকেরা কেঁদেছে। তবে হৃদয়ে কষ্ট আর চোখে আগুন নিয়ে আমরা লড়াইয়ের ময়দান ছাড়ব না।” এই প্রসঙ্গে তৎকালীন কঠিন সময়ে ইন্দিরা গান্ধীর তিনবার দলীয় প্রতীক পরিবর্তনের ঐতিহাসিক দৃষ্টান্তও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

নতুন নাম ও প্রতীকের হিসাব-নিকাশ

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজনৈতিক শিবিরে এখন নতুন বিন্যাস:

  • মমতা শিবির: নতুন নাম বরাদ্দ করা হয়েছে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং নতুন নির্বাচনী প্রতীক ‘ফুটবল প্লেয়ার’। দলীয় নামের সঙ্গে ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ শব্দটি বজায় থাকায় কিছুটা হলেও আইনি ও মানসিক স্বস্তি পেয়েছেন নেত্রী।
  • বিদ্রোহী শিবির: বিরোধী এই অংশ পেয়েছে ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং তাদের প্রতীক দেওয়া হয়েছে ‘খাম’

নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে ‘সারপ্রাইজ’ সমর্থন

প্রতীক হারানোর ধাক্কার মাঝেই নন্দীগ্রাম থেকে চমকপ্রদ চাল চাললেন মমতা। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে তাঁর শিবিরের মনোনীত প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে আচমকাই নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন।

এর পরপরই মমতা ঘোষণা করেন, নন্দীগ্রামে তারা কংগ্রেস প্রার্থীকে পূর্ণ সমর্থন দেবেন। রাহুল গান্ধীর সঙ্গে আগে থেকে কোনো আলোচনা ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মমতা একে একটি সম্পূর্ণ ‘সারপ্রাইজ’ পদক্ষেপ বলে দাবি করেন।

‘ইন্ডিয়া’ জোট ও ঘুরে দাঁড়ানোর হুঙ্কার

একদিকে প্রতীক হারানোর আবেগ, অন্যদিকে নতুন প্রতীক নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে সমর্থনের মাধ্যমে একদিকে যেমন বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটকে মজবুত করার স্পষ্ট বার্তা দিলেন মমতা, তেমনই নিজের রাজনৈতিক উপস্থিতি যে কোনোভাবেই ম্লান হয়নি—তাও সাফ বুঝিয়ে দিলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *