রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে তোলপাড়! ভাইরাল অডিও কাণ্ডে হুমায়ুন কবীরকে পুলিশি তলব

রেজিনগর উপনির্বাচনের ঠিক দোরগোড়ায় মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে বড়সড় চড়ল পারদ। ভাইরাল অডিও ক্লিপ কাণ্ডে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP)-র প্রধান তথা বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে তলব করল বহরমপুর থানার পুলিশ।
শনিবার শক্তিপুরে হুমায়ুন কবীরের বাসভবনে গিয়ে হাজির হন বহরমপুর থানার পুলিশ আধিকারিকরা। বিধায়ক নিজে বাড়িতে না থাকায় নোটিসটি তাঁর ছেলের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশের নির্দেশে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আগামী সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার মধ্যে বহরমপুর থানায় হাজিরা দিতে হবে হুমায়ুন কবীরকে। সময়মতো উপস্থিত না হলে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নোটিসে সর্তক করা হয়েছে।
অডিও কাণ্ড ও পুলিশের নজর সম্প্রতি একটি বিতর্কিত অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়তেই আলোড়ন সৃষ্টি হয় রাজ্য রাজনীতিতে। অভিযোগ, সেই কথোপকথনে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ রাখা এবং সুনির্দিষ্ট এলাকায় গ্যাং তৈরি করে প্রভাব বিস্তার করার চক্রান্ত নিয়ে আলোচনা শোনা যায়। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই একজনকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ সূত্রের দাবি, অডিওতে থাকা কণ্ঠস্বরটি হুমায়ুন কবীরের বলেই প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে। যদিও বিধায়ক স্বীকার করেছেন যে তাঁর কাছে একটি ফোন এসেছিল, তবে বিষয়টি নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতেই এই জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত।
দ্বিগুণ চাপে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি একদিকে যখন দলের প্রধানকে পুলিশি নোটিস ধরানো হয়েছে, ঠিক একই দিনে অন্য এক অভিযানে বড় ধাক্কা খেয়েছে হুমায়ুনের দল। হরিহরপাড়া থেকে অস্ত্র আইনে গ্রেফতার করা হয়েছে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির রাজ্য সম্পাদককে।
উপনির্বাচনী প্রচারের চূড়ান্ত মুহূর্তে দলের সর্বোচ্চ নেতার বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ এবং রাজ্য সম্পাদকের গ্রেফতারিতে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পুরো জেলা জুড়ে। সোমবার হুমায়ুন কবীর থানায় হাজিরা দেন কি না এবং পুলিশি তদন্তে কী নতুন তথ্য উঠে আসে, এখন সেদিকেই চোখ জেলাবাসীর।