জোড়াফুল ফ্রিজের পর প্রতীক-ধামাকা! নওশাদের ‘খাম’ গেল ঋতব্রতের হাতে, হুমায়ুনের ‘বাঁশি’ হল ‘টেবিল’

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন উপনির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশিকায় রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় তোলপাড়। ছিটকে গেল পুরনো একাধিক চেনা প্রতীক, বদলে রাজনৈতিক দলগুলির হাতে এল নতুন নির্বাচনী চিহ্ন। সবথেকে বড় চমক তৈরি হয়েছে ভাঙড় ও রেজিনগর কেন্দ্রকে ঘিরে— নওশাদ সিদ্দিকীর ‘ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট’ (আইএসএফ) এবং হুমায়ুন কবীরের ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (এইউজেপি)-র প্রতীক বদলে দিয়েছে কমিশন।
‘খাম’ হাতছাড়া নওশাদের, পেলেন ‘আলমারি’ ভাঙড় থেকে পরপর দু’বার বিধানসভা ভোটে ‘খাম’ প্রতীক নিয়ে জয়ী হয়েছিলেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। ২০২১ সালে দল প্রতিষ্ঠার পর থেকে পঞ্চায়েত ও লোকসভা ভোটেও এই প্রতীকই ছিল তাঁদের ভরসা। কিন্তু উপনির্বাচনের আগে সেই প্রতীক হাতছাড়া হল তাঁর। নির্বাচন কমিশন সেই ‘খাম’ প্রতীক বরাদ্দ করেছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন দল ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ (ডিটিসি)-কে। বদলে নওশাদের দলকে দেওয়া হয়েছে ‘আলমারি’ প্রতীক।
কমিশনের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ নওশাদ সিদ্দিকী ইতিমধ্যেই চিঠি পাঠিয়েছেন নির্বাচন সংস্থাকে। হাই কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “যে দলটার অস্তিত্বই ছিল না, তারা রাতারাতি স্বীকৃত পেয়ে গেল! এই খেলা মেনে নেওয়া যায় না।”
হুমায়ুনের ‘বাঁশি’ বদলে হল ‘টেবিল’ অন্য দিকে, তৃণমূল ছেড়ে বেরোনো হুমায়ুন কবীরের নতুন দল ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ গত বিধানসভা নির্বাচনে লড়েছিল ‘বাঁশি’ প্রতীকে। আগামী ৬ অক্টোবরের রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে তাঁদের সেই প্রতীক তুলে নিয়েছে কমিশন। হুমায়ুনদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ‘টেবিল’ প্রতীক। উল্লেখ্য, রেজিনগর আসনটি হুমায়ুন ছেড়ে দেওয়ার পর সেখানে এ বার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাঁর ছেলে গোলাম নবি আজাদ।
মমতা ও ঋতব্রত শিবিরের টানাটানি এর আগে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামটি এবং তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘জোড়াফুল’ প্রতীক আপাতত ফ্রিজ বা স্থগিত রাখা হচ্ছে। দুই শিবিরকে আলাদা নাম ও চিহ্ন বেছে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
শুক্রবার কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী:
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির: নাম ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’, দলীয় প্রতীক ‘ফুটবল খেলোয়াড়’।
- ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির: নাম ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’, দলীয় প্রতীক ‘খাম’।
ফলে এক ধাক্কায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের হাতে আঁকা ‘জোড়াফুল’, নওশাদদের ‘খাম’ এবং হুমায়ুনদের ‘বাঁশি’— তিন পরিচিত চিহ্নই আপাতত ভোটের ময়দান থেকে গায়েব। নতুন প্রতীক নিয়ে উপনির্বাচনের লড়াই এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সে দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।