ভুয়ো ডাক্তার কাণ্ড: সুদীপ্ত-নির্মলের বিরুদ্ধে FIR, তীব্র চাঞ্চল্য স্বাস্থ্যমহলে!

কলকাতা: রাজ্যে একের পর এক ভুয়ো ডাক্তারের হদিশ মেলার ঘটনায় এবার বড়সড় আইনি পদক্ষেপ। ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিলের সভাপতি, সম্পাদক ও প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কসহ শীর্ষ কর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে পুলিশের দ্বারস্থ হলেন চিকিৎসকদের এক প্রতিনিধি দল।
বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটে এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিংহোম’-এর (এপিএইচএন) সম্পাদক রাজীব পাণ্ডে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ডা: অর্চিষ্মান বন্দ্যোপাধ্যায় ও ডা: রজত বাসু সহ অন্যান্য চিকিৎসকরা। অভিযোগে সরাসরি নিশানায় আনা হয়েছে কাউন্সিলের বর্তমান সভাপতি ডা: সুদীপ্ত রায়, সম্পাদক সুশান্ত রায়, প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ডা: নির্মল মাজি এবং রেজিস্ট্রার মানস চক্রবর্তীকে।
কী দাবি অভিযোগকারীদের?
অভিযোগকারী চিকিৎসকদের দাবি, গত ১৫ বছর ধরে রাজ্যজুড়ে বহু ভুয়ো ডাক্তার জালিয়াতি চালিয়ে আসছে। চিকিৎসকদের কথায়, “মানুষের জীবন-মরণ যাঁদের হাতে থাকে, সেই ডাক্তারদের এই ধরনের ভুয়ো রেজিস্ট্রেশন কীভাবে দেওয়া হলো, তা অবিলম্বে তদন্ত করা দরকার।”
ডা: রজত বাসু জানান, বিগত ১৫ বছর ধরে মেডিক্যাল কাউন্সিলের শীর্ষে যাঁরাই ছিলেন—বিশেষ করে ডা: সুদীপ্ত রায় এবং ডা: নির্মল মাজি—তাঁদের প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে হবে। কেবল সভাপতি নন, কাউন্সিলের অন্যান্য সদস্যদের সিদ্ধান্ত ও কাজের ওপরও নজর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
আইনি পদক্ষেপ ও পরবর্তী সম্ভাবনা:
ইতিমধ্যেই পুলিশ লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করে তদন্ত শুরু করেছে এবং দ্রুত অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানানো হয়েছে প্রশাসন ও দপ্তরের পক্ষ থেকেও, যেখানে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন—যদি এই তদন্ত প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়, তবে আগামী দিনে সিআইডি (CID) বা আরও বড় কোনো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সাহায্য চাওয়া হতে পারে।