সরকারি অফিসে গভীর রাতে মদ-খাসির মাংসের মোচ্ছব! হাতেনাতে ধরতেই পালালেন কর্মীরা

সরকারি অফিসে গভীর রাতে মদ-খাসির মাংসের মোচ্ছব! হাতেনাতে ধরতেই পালালেন কর্মীরা

দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা স্কুল পরিদর্শকের (ডিআই) অফিসে রাতের অন্ধকারে রীতিমতো মদ ও খাসির মাংসের আসর বসানোর অভিযোগ উঠল। বুধবার রাতে অফিসের কাজ শেষ হওয়ার পরেই হাঁড়ি-কড়াই নিয়ে শুরু হয় পিকনিক। সরকারি অফিসের ভেতরে এমন ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, যেখানে গ্যাসের ওভেন জ্বালিয়ে এই রান্নাবান্না চলছিল, তার ঠিক পাশেই ছিল কাঠের আলমারি এবং শিক্ষা দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র। ফলে যে কোনও মুহূর্তে বড়সড় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি ছিল। শুধু খাসির মাংস নয়, ওই আসরে মদেরও এলাহি বন্দোবস্ত ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রাত ১০টা নাগাদ অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘের (আরএসএস অনুমোদিত শিক্ষক সংগঠন) কয়েকজন নেতা আচমকাই ডিআই অফিসে হানা দেন। কিন্তু তাঁদের আসার খবর টের পেয়েই পিকনিকের আসর ছেড়ে চম্পট দেন অভিযুক্ত কর্মীরা। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বালুরঘাট থানার পুলিশ।

শিক্ষক নেতা নিখিল পাল এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেন, “জেলা শিক্ষা দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ অফিসে রাতের অন্ধকারে কীভাবে এমন পিকনিকের আয়োজন করা হলো, তা অবিলম্বে তদন্ত করে দেখা উচিত। পাশাপাশি, অগ্নিনির্বাপণ বিধি মানা হয়েছিল কি না এবং এই বিষয়ে ডিআই সাহেবের মদত বা সম্মতি ছিল কি না, সেটাও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। আমরা প্রশাসনের কাছে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছি।”

গোটা ঘটনা প্রসঙ্গে জেলার ডিআই জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলেই তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *