‘ওকে আমি মারতে চাইনি…’, পুরুলিয়ায় প্রেমিকা খুনে পুলিশের কাছে মুখ খুলল অমিত

‘ওকে আমি মারতে চাইনি…’, পুরুলিয়ায় প্রেমিকা খুনে পুলিশের কাছে মুখ খুলল অমিত

‘ওকে আমি মারতে চাইনি স্যর, রাগের মাথায় হঠাৎই হয়ে গিয়েছে।’ পুলিশের জেরার মুখে কান্নায় ভেঙে পড়ে ঠিক এমনটাই দাবি করেছে পুরুলিয়ায় প্রেমিকা খুনে অভিযুক্ত অমিত মাহাতো। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, প্রেমিকার মোবাইলে আসা অন্য এক যুবকের ফোনকলই এই মর্মান্তিক খুনের মূল কারণ।

পুলিশ সূত্রে খবর, বছর একুশের অমিতের সঙ্গে ১৯ বছরের ওই তরুণীর প্রায় আড়াই বছরের সম্পর্ক ছিল। মাঝে তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরলে তরুণীর জীবনে অন্য এক বন্ধু আসে। তবে সম্প্রতি সেই যুবক উত্তরাখণ্ডে পড়তে চলে যাওয়ায় অমিতের সঙ্গে তরুণীর সম্পর্ক ফের স্বাভাবিক হতে শুরু করেছিল। শনিবার নার্সিংয়ের প্রশিক্ষণে যাওয়ার আগে পুরুলিয়ার রামকৃষ্ণপল্লির মেসে অমিতের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন তরুণী। দোতলার ফাঁকা ঘরে গল্প করার মাঝেই আচমকা তরুণীর ফোনে উত্তরাখণ্ডে থাকা সেই যুবকের কল আসে।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রেমিকার ফোনে ওই যুবকের কল দেখেই মুহূর্তের মধ্যে মেজাজ হারায় অমিত। রাগের মাথায় মেসের আনাজ কাটার ছুরি দিয়ে সরাসরি প্রেমিকার গলায় কোপ বসায় সে। তরুণী রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়লে মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাঁর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধও করে অমিত।

খুনের পর ঘোর কাটতেই প্রমাণ লোপাটে তৎপর হয় অভিযুক্ত। রক্তমাখা ঘর ধুয়ে পরিষ্কার করার পর মেসের একটি বস্তায় দেহ ভরার চেষ্টা করে। কিন্তু বস্তাটি ছোট হওয়ায় বাইরে থেকে একটি আটার খালি বস্তা কিনে আনে অমিত। এরপর ইউএসবি কেবল দিয়ে বস্তার মুখ শক্ত করে বেঁধে বাইকের পিছনে চাপিয়ে দেহ লোপাটের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে সে। প্রথমে পাম্প থেকে তেল ভরে বাইপাস ধরে বলরামপুরের রাস্তা ধরেছিল অমিত। কিন্তু পথেই এক ভিলেজ পুলিশের নজরে পড়ে যাওয়ায় হাতেনাতে ধরা পড়ে যায় সে।

এই হাড়হিম করা ঘটনার পর রামকৃষ্ণপল্লির ওই মেসে এখন শ্মশানের নিস্তব্ধতা। আতঙ্কে বাক্স-প্যাঁটরা গুছিয়ে মেস ছাড়ছেন বাকি পড়ুয়ারা। এক আবাসিকের কথায়, “ভয়ে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। পরীক্ষা থাকলেও এখানে আর থাকা সম্ভব নয়।” পুলিশ জানিয়েছে, মেস মালিক বর্তমানে বেপাত্তা এবং তরুণীর ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই তদন্তের পরবর্তী জট খুলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *