লোন দেওয়ার নামে কোটি টাকার প্রতারণা! বর্ধমানে ধরা পড়ল ‘জামতাড়া গ্যাং’, গ্রেপ্তার ৭

বর্ধমান: কল সেন্টারের আড়ালে লোন পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের টাকা ও ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার এক বড়সড় জালিয়াতি চক্রের পর্দাফাঁস করল বর্ধমান থানার পুলিশ। বিখ্যাত ‘জামতাড়া গ্যাং’-এর কায়দায় চলা এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ৭ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
📍 ডেরা থেকে যেভাবে চলত প্রতারণা
বর্ধমান শহরের তিনকোনিয়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন গুডস্ শেড রোডের একটি বহুতলের দোতলায় গোপনে এই কল সেন্টারটি পরিচালিত হচ্ছিল। লোকচক্ষু ও সন্দেহ এড়াতে বাইরে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার ভুয়া সাইনবোর্ড টাঙানো ছিল। অফিসের ভেতরে ছিল পৃথক কল ডেস্ক, ট্রেনিং রুম এবং ডিরেক্টর রুম।
📲 জাল ফেলার অভিনব কৌশল
ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর (NCRB) পোর্টালে জমা পড়া অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে জানা যায়:
- মহিলা কর্মী ও কিপ্যাড ফোন: প্রাথমিক কথোপকথনের জন্য মহিলা কর্মীদের রাখা হয়েছিল। ট্রাস্টি বোর্ডের নামে নেওয়া সিম কার্ড এবং স্মার্টফোনের বদলে সাধারণ কিপ্যাড ফোন ব্যবহার করা হতো।
- নথি সংগ্রহ: গ্রাহকদের সহজে লোন দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে আধার কার্ড, প্যান কার্ড ও ভোটার কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত নথি সংগ্রহ করা হতো।
- প্রসেসিং ফি-র নামে টাকা আদায়: নথি পাওয়ার পর ‘প্রসেসিং ফি’-র অজুহাতে পাঠানো হতো কিউআর (QR) কোড। সেই কোডে টাকা দেওয়ার পর ধাপে ধাপে আরও টাকা দাবি করা হতো।
🚔 পুলিশি অভিযান ও উদ্ধার
শুধু পূর্ব বর্ধমান নয়, সমগ্র রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দাদের ফোন করে এই ফাঁদে ফেলা হতো। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে পুলিশ প্রতারণা চক্রের অফিস থেকে:
- প্রায় ৫,০০০ ফোন নম্বরের ডেটাবেস
- ১২টি সিম কার্ড
- ১টি ল্যাপটপ ও ৪টি ডেস্কটপ
- ৮টি মোবাইল ফোন সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করেছে।
ধৃতদের বর্ধমান আদালতে পেশ করে ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে আরও জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত প্রক্রিয়া জারি রেখেছে পুলিশ।