পুজোর অনুদান পেতে নতুন নিয়ম! ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট না থাকলে আটকে যেতে পারে সরকারি সাহায্য
দুর্গাপুজোর সরকারি অনুদান পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তন আনল রাজ্য সরকার। এ বার থেকে আর কোনও ব্যক্তির ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অনুদানের টাকা পাঠানো হবে না। সরকারি সাহায্য পেতে গেলে পুজো কমিটির নিজস্ব নামে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রশাসনের এই কড়া সিদ্ধান্তের পরই চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন রাজ্যের বহু ছোট পুজো উদ্যোক্তা।
কী কী নতুন নথি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক?
- পুজো কমিটির নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ক্যানসেলড চেক (Cancelled Cheque) ও পাসবুকের প্রথম পাতার প্রতিলিপি।
- জমির মালিকের দেওয়া অনুমতিপত্র।
- দমকল ও বিদ্যুৎ দপ্তরের প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র (NOC)।
- গত বছরের আয়-ব্যয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব।
- ২০২৬ সালের অনুদানের জন্য করা অনলাইন আবেদনের কপি।
কেন এই কড়াকড়ি? প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকারি অনুদানের অর্থ সরাসরি পুজো কমিটির অ্যাকাউন্টে পৌঁছচ্ছে কি না এবং সেই টাকা ঠিক কী কাজে খরচ করা হচ্ছে, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।
বাস্তব চিত্রে চরম বিপত্তি: তমলুক থানায় এক দিনেই প্রায় ৪৪টি পুজো কমিটি অনুদানের আবেদন জমা দিয়েছে। তবে ছোট পুজোগুলোর ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম মানতে গিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। তমলুকের মহাপ্রভু মন্দিরপাড়া কমিটির উদ্যোক্তা সুলেখা ভৌমিক জানান, ২০১৮ সাল থেকে সরকারি অনুদান পেলেও তা এতদিন ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে জমা পড়ত। এ বার হঠাৎ কমিটির নামে অ্যাকাউন্ট বাধ্যতামূলক করায় তাঁরা সমস্যায় পড়েছেন। মূলত পাড়ার মহিলারাই সীমিত সামর্থ্য নিয়ে এই পুজো পরিচালনা করেন, তাই নতুন করে ক্লাবের অ্যাকাউন্ট খোলা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
একই চিত্র নন্দকুমার এলাকাতেও। গত বছর যেখানে ৭০টির বেশি পুজো কমিটি সরকারি অনুদান পেয়েছিল, এ বছর নতুন নিয়মের জটিলতায় এখনও পর্যন্ত মাত্র দু’টি কমিটি আবেদন করতে পেরেছে। শেষ পর্যন্ত কতগুলি পুজো নতুন নিয়ম মেনে অনুদান পায়, সে দিকেই এখন নজর প্রশাসনের।