সব নথি বৈধ, তাও ৮৭ দিন জেল! ভারতীয় বৃদ্ধের সঙ্গে এ কী করল পুলিশ?

সব নথি বৈধ, তাও ৮৭ দিন জেল! ভারতীয় বৃদ্ধের সঙ্গে এ কী করল পুলিশ?

উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপখরের বাসিন্দা ৭০ বছরের বৃদ্ধ জলিল আখতারকে ঘিরে এক নজিরবিহীন নিদারুণ হয়রানির ঘটনা সামনে এসেছে। সমস্ত বৈধ ভারতীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কেবল বাংলাদেশি সন্দেহে তাঁকে টানা ৮৭ দিন কাটাতে হলো জেলের অন্ধকুঠুরিতে।

মাঝরাতে নাটকীয় গ্রেফতারি গত ১৯ জুন গভীর রাতে, উত্তর দিনাজপুরের বাগরই গ্রামে যখন সবাই ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন ডালখোলা থানার পুলিশ হঠাৎ হানা দেয় জলিল আখতারের বাড়িতে। পরিবারের দাবি, কোনো আগাম নোটিশ বা কারণ ছাড়াই খাটে শুয়ে থাকা বৃদ্ধকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। পরদিন সকালে খোঁজ নিতে গেলে পুলিশ জানায়, তিনি নাকি ২৪ বছর আগে বাংলাদেশ থেকে বেআইনিভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিলেন।

হাতে ছিল খাঁটি প্রমাণ, তবুও হয়রানি পুলিশের দাবি সম্পূর্ণ উড়িয়ে জলিল আখতারের পরিবার সমস্ত সরকারি নথিপত্র পেশ করে। তাতে স্পষ্ট দেখা যায়:

  • ভোটার রেকর্ড: ১৯৯৫, ২০০২ এবং ২০২৬ সালের সংশোধিত ভোটার তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে।
  • ভোটাধিকার: ১৯৮২ সাল থেকেই তিনি নিয়মিত ভারতে ভোট দিয়ে আসছেন।
  • অন্যান্য নথি: প্যান কার্ড ও ভোটার আইডেন্টিটি কার্ডের সমস্ত তথ্যই সরকারি রেকর্ডে খাঁটি হিসেবে প্রমাণিত।

আইন অনুযায়ী, ১৯৮৭ সালের পূর্বে জন্ম নেওয়া ভারতীয় নাগরিকদের বাবা-মায়ের নথির বাধ্যবাধকতা না থাকা সত্ত্বেও, পুলিশ চার বার জামিনের শুনানি পিছিয়ে দেয়।

আদালতের কড়া অবস্থান ও অবশেষে মুক্তি ইসলামপুর আদালতের অতিরিক্ত মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (ACJM) এজলাসে তদন্তকারী অফিসারকে সরাসরি প্রশ্ন করেন—পরিবারের জমা দেওয়া নথিগুলি আসল না জাল? পুলিশ এর কোনো উত্তর দিতে পারেনি।

আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের নাগরিকত্বের পক্ষে জোরালো প্রমাণ দিয়েছেন এবং তাঁকে আটকে রাখা অন্যায়। আদালতের নির্দেশে গত ১৫ সেপ্টেম্বর, দীর্ঘ ৮৭ দিনের বন্দিদশা শেষে মুক্ত হন জলিল আখতার।

বাড়ি ফিরলেও এই নিরপরাধ বৃদ্ধ ও তাঁর পরিবারের মুখে হাসির বদলে এখন একটাই প্রশ্ন—বিনা অপরাধে জীবনের মূল্যবান ৮৭টি দিন কেড়ে নেওয়ার ও সম্মানহানির জবাব কে দেবে?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *