নন্দীগ্রামের পর রেজিনগর! ‘দিদি’র সবুজ সংকেত পেতেই উপনির্বাচনের ময়দান ছাড়ছেন মমতার প্রার্থী
নন্দীগ্রামের পর এবার রেজিনগর! বিধানসভা উপনির্বাচনের ঠিক মুখে রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় ধাক্কা খেল ঘাসফুল শিবির। নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে-র পথ অনুসরণ করে এবার ভোটের ময়দান থেকে সড়ে দাঁড়ানোর ঘোষণা করলেন রেজিনগরের তৃণমূল (‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’) প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী।
শনিবার সকালে বেলডাঙায় দলীয় কর্মীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের পর বহরমপুরে মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করার কথা জানান তিনি। উল্লেখ্য, ১৯ সেপ্টেম্বরই ছিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন।
‘দিদি বলেছেন, যেটা ভালো হয় দেখো’ আচমকা কেন এমন সিদ্ধান্ত? সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রবিউল জানান, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। দলনেত্রীর প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট করে রবিউল বলেন, “দিদি বলেছেন, যেটা ভালো হয় দেখো।”
মনোনয়ন প্রত্যাহারের আসল কারণ: নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাতারাতি বদলেছে দলের নাম ও প্রতীক। পুরনো পরিচিত চিহ্নের বদলে দলের নয়া নাম হয়েছে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং নতুন প্রতীক নির্ধারিত হয়েছে ‘খেলোয়াড়’ (ফুটবল পায়ে)।
আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন এবং ৯ অক্টোবর ভোট গণনা। রবিউলের দাবি, ভোটের হাতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এত কম সময়ে নতুন নাম ও প্রতীক সাধারণ ভোটারদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। রবিউলের বক্তব্য, “ভোট লড়াইয়ের মূল কারিগর কর্মীরাই। এত কম সময়ে প্রতীক চেনাতে তারা সমস্যায় পড়ছে। তারা যখন বলছে এ ভাবে নির্বাচনে থাকা কঠিন, তখন কর্মীদের ছাড়া আমি কাকে নিয়ে লড়াই করব?”
রেজিনগরে রবিউলের অতীত রেকর্ড: রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরী অতি পরিচিত মুখ।
- ২০১৩: উপনির্বাচনে কংগ্রেসের হয়ে প্রথম জয়।
- ২০১৬: কংগ্রেসের টিকিটে পুনরায় জয়।
- ২০২১: তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে ৬৮ হাজারের বেশি ভোটে জিতে জয়ের হ্যাটট্রিক।
তবে ২০২৬ সালের মূল বিধানসভা নির্বাচনে রবিউলকে বেলডাঙা থেকে প্রার্থী করা হলে তিনি পরাজিত হন। অন্যদিকে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর রেজিনগর ও নওদা—দুই আসনেই জয়ী হন। পরবর্তীকালে হুমায়ুন রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দিলে সেখানে উপনির্বাচন ঘোষণা করা হয়।
কালীঘাট আবারও রেজিনগরে পুরনো চাল রবিউলের ওপর ভরসা রেখে মনোনয়ন জমা দেওয়াই। কিন্তু নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী সড়ে দাঁড়ানো এবং সেখানে কংগ্রেস সমর্থনের জল্পনার মধ্যেই রেজিনগরেও পিছিয়ে এল তৃণমূল। এখন দেখার, রেজিনগরেও কি রাজনীতির সমীকরণ নতুন মোড় নেয়!