‘শুভেন্দুর পেতে রাখা ফাঁদে গলা দিলাম কেন?’ বিস্ফোরক পোস্ট মুছে কুণালের বড় ইউটার্ন!

‘শুভেন্দুর পেতে রাখা ফাঁদে গলা দিলাম কেন?’ বিস্ফোরক পোস্ট মুছে কুণালের বড় ইউটার্ন!

নির্বাচন কমিশন দলের নাম ও ঐতিহ্যবাহী ‘জোড়াফুল’ প্রতীক সাময়িকভাবে ফ্রিজ করার পর থেকেই উপনির্বাচনের ময়দানে তীব্র চাপানউতোর। এরই মাঝে দলের রণকৌশল ও সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিলেন কালীঘাটপন্থী কুণাল ঘোষ। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপির পেতে রাখা ফাঁদে পা দেওয়ার জন্য দলীয় ব্যর্থতাকেই দায়ী করেন তিনি। যদিও বিতর্ক তৈরি হতেই সেই বিস্ফোরক পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়া থেকে মুছে রেজিনগরের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরীর মতোই ইউটার্ন নিলেন কুণালও!

ফেসবুক পোস্টে ঠিক কী লিখেছিলেন কুণাল ঘোষ? কুণাল তাঁর প্রথম পোস্টে তীব্র আত্মসমালোচনার সুরে লেখেন, শুধুমাত্র শুভেন্দু অধিকারী বা বিজেপির চক্রান্তকে দোষ দিলে চলবে না, নিজেদের কৌশলগত গলদও মেনে নিতে হবে। তাঁর সোজা প্রশ্ন ছিল, “বিজেপি হাঁড়িকাঠ পেতে রেখেছিল, কিন্তু আমরা তাতে গলা রাখতে গেলাম কেন? পরিস্থিতি কেন আগে অনুধাবন করা গেল না?”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাথমিক কৌশল কী ছিল? কুণালের পোস্ট অনুযায়ী, প্রতীক ফ্রিজ হওয়ার পর দলীয় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যসভার সংসদীয় দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনের পরিকল্পনা ছিল অত্যন্ত বাস্তবসম্মত:

  • কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কড়া আইনি লড়াই চালানো হবে।
  • অন্য কোনো প্রতীকে নির্দল বা বিকল্প প্রার্থী হিসেবে উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করে কংগ্রেসকে সমর্থন করা হবে।
  • এর ফলে প্রশাসন ও পুলিশকে ব্যবহার করে বিজেপির হেনস্থা থেকে দলীয় কর্মীদের বাঁচানো যেত এবং ভোট অন্যদিকে স্থানান্তরিত করে লড়াই সহজ হতো।

কুণালের অভিযোগ, স্বয়ং মমতার মুখেও এই যুক্তির কথা শোনা গিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে কোনো দলীয় বৈঠক বা আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ করে প্রার্থী ঘোষণা করে দেওয়া হয়, যার ফলেই এই সংকট তৈরি হয়েছে।

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর নিয়ে সরব: নন্দীগ্রামের মনোনীত প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে প্রসঙ্গে কুণাল খোলসা করেন, দু’মাস আগেই সঞ্চিতা প্রার্থী হতে চাইলেও কুণাল দলের কাছে তাঁর নাম সুপারিশ করেননি। কুণালের দাবি, নন্দীগ্রামে কিছু ‘বিজ্ঞ’ নেতৃত্বের ভুলের কারণে সংগঠন আজ দুর্বল। সেখানে ঘর না গুছিয়ে তড়িঘড়ি প্রার্থী ঘোষণা করা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। একইভাবে রেজিনগর নিয়েও সতর্কতা জরুরি ছিল বলে তিনি জানান।

বিস্ফোরক পোস্ট মুছে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পোস্ট শেয়ার: দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে এমন চাঞ্চল্যকর কথা লেখার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই পোস্টটি ডিলিট করে দেন কুণাল ঘোষ। এরপর তিনি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি পোস্ট শেয়ার করেন, যেখানে জানানো হয়েছে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলে রেজিনগরের তৃণমূল সমর্থিত প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী ভোটে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তবে কৌশলী ভুলের কথা তুললেও কুণাল নিশ্চিত করেছেন যে, এই সমস্যা কেবল উপনির্বাচনকেন্দ্রিক। বেইমান ও বিজেপির অনুগামীদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার দাবি করে তিনি স্পষ্ট জানান, সমস্ত ভুল শুধরে নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই মূল রাজনৈতিক ও আইনি যুদ্ধে জয়ী হবে তৃণমূল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *