শিক্ষকই মাদকের সওদাগর! কলেজ অধ্যাপকসহ পুলিশের জালে ৪

শিক্ষকই মাদকের সওদাগর! কলেজ অধ্যাপকসহ পুলিশের জালে ৪

কেরল: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই ছড়াচ্ছিল বিষাক্ত মাদকের জাল, আর সেই জালের মূলে জড়িয়ে খোদ কলেজ শিক্ষক! কেরলের মালাপ্পুরম জেলায় ছাত্র ও যুবকদের কাছে নিষিদ্ধ এমডিএমএ (MDMA) সরবরাহের অভিযোগে এক কলেজ শিক্ষকসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার পর শিক্ষা কেন্দ্রগুলিকে কেন্দ্র করে চলা এই বিশাল চক্রের শিকড় কতদূর ছড়িয়ে রয়েছে, তা নিয়ে জোরকদমে তদন্ত শুরু হয়েছে।

ধৃত শিক্ষকের নাম সোহেল পেরিঙ্গোদান, যিনি কেরলের ‘এমইএস মম্পাদ কলেজ’-এর শিক্ষক। এই ঘটনায় গ্রেফতার বাকি তিন অভিযুক্ত হলেন রীনা টিএন, বিবেক বিজয়ন এবং সুব্রহ্মণ্যন।

পুলিশ সূত্রে খবর, একটি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে সুব্রহ্মণ্যনকে আটক করে পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে ০.৪ গ্রাম এমডিএমএ এবং ০.৫ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার হয়। এরপর তাঁকে কড়া জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করতেই বেরিয়ে আসে চমকপ্রদ তথ্য— পাচারের মূল কাণ্ডারী অন্য কেউ নন, খোদ কলেজ শিক্ষক সোহেল!

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত শিক্ষক নিয়মিতভাবে বিবেক ও রীনার হাতে এমডিএমএ তুলে দিতেন। তাঁরা নিলম্বুর ও আশপাশের এলাকার কলেজ পড়ুয়া এবং যুবকদের কাছে সেই মাদক পৌঁছে দেওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক চালাতেন। যদিও ধৃতদের কাছ থেকে পাওয়া মাদকের পরিমাণ আপাতত কম, তবে এটি একটি বিপুল পরিমাণ অর্থের মাদক চক্রের অংশ বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের।

উল্লেখ্য, কয়েক সপ্তাহ আগেই কোঝিকোড় জেলার ভদকরায় ‘অপারেশন তুফান’-এর অধীনে কিউআর কোড ও গোপন ‘ডেড-ড্রপ’ লোকেশন ব্যবহার করে লাখ লাখ টাকার মাদক পাচারের অভিযোগে তিন শিক্ষিকাকে বরখাস্ত ও গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই মালাপ্পুরমে কলেজ শিক্ষকের এই কাণ্ডে শিক্ষা জগতে মারাত্মক উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *