পেট্রোল পাম্পে ২০০০ টাকার বেশি UPI বন্ধের সিদ্ধান্ত! জানুন কেন বিপাকে পাম্প মালিকরা

পেট্রোল পাম্পে ২০০০ টাকার বেশি UPI বন্ধের সিদ্ধান্ত! জানুন কেন বিপাকে পাম্প মালিকরা

পেট্রোল বা ডিজেল কিনতে গিয়ে কিউআর কোড (QR Code) স্ক্যান করে পেমেন্ট করার অভ্যাস যাদের রয়েছে, তাদের জন্য নেমে এলো উদ্বেগের খবর। পেট্রোল পাম্পে ২০০০ টাকার বেশি মূল্যের ইউপিআই (UPI) লেনদেন গ্রহণে আসাম্মতি জানাতে চলেছেন পেট্রোল পাম্প ডিলাররা।

কী এই নতুন নিয়ম ও MDR ফি? আসন্ন নিয়ম অনুযায়ী, ব্যবসায়ীদের জন্য ২০০০ টাকার বেশি UPI লেনদেনে ০.৪ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (MDR) ফি ধার্য করা হচ্ছে। তবে ইন্ধন অর্থাৎ পেট্রোল, ডিজেল বা সিএনজি (CNG) কেনাকাটার ক্ষেত্রে ২০০০ টাকার বেশি লেনদেনে ৫ টাকার স্থির (Fixed) MDR ফি প্রযোজ্য হবে। এই ফি গ্রাহকদের মেটাতে হবে না, মেটাতে হবে পাম্পের মালিককেই।

১৬ অক্টোবর থেকে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি এই অতিরিক্ত ফি-র ভার বহন করতে একদমই রাজি নন পেট্রোল পাম্পের ডিলাররা। দেশের একাধিক জায়গায় এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রদেশ পেট্রোল পাম্প ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অজয় সিং স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকার যদি এই MDR ফি অবিলম্বে প্রত্যাহার না করে, তবে আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে রাজ্যের কোনো পাম্পেই ২০০০ টাকার বেশি কেনাকাটায় ইউপিআই পেমেন্ট নেওয়া হবে না।

অজয় সিংয়ের বক্তব্য, “নতুন ব্যবস্থার ফলে প্রতিটি পেট্রোল পাম্পকে প্রতি মাসে প্রায় ১৭,৭০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত লোকসান গুনতে হবে। রাজ্যের ৪,৭০০টি পাম্পের ব্যবসায়ী মার্জিন এমনিতেই বেশ কম, তাই এই অতিরিক্ত খরচের ভার বহন করা সম্ভব নয়।”

উদ্বেগে CAIT, ধাক্কা ডিজিটাল ইন্ডিয়ায় পেট্রোল পাম্প ডিলারদের এই সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে খুচরো ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ‘কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স’ (CAIT)। সংগঠনটির ভোপাল ইউনিটের সভাপতি ধর্মেন্দ্র শর্মা জানান, দীর্ঘ দিন ধরে ইউপিআইকে ক্যাশলেস অর্থনীতি ও ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’র অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরা হলেও, নতুন MDR ফি-র কারণে এখন ব্যবসায়ীরা ডিজিটাল লেনদেন থেকে সরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন।

তিনি জানান, বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ১০,০০০ টাকার অনলাইন লেনদেনে প্রায় ৪০ টাকা এবং ইন্ধনের ক্ষেত্রে ২০০০ টাকার বেশি কেনাকাটায় ৫ টাকা ফি কাটার প্রস্তাব ব্যবসাকে চরম ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এর সরাসরি প্রভাব গিয়ে পড়বে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর, যারা ডিজিটাল পেমেন্টের ওপর নির্ভরশীল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *