‘মাঝে হলো ছাড়াছাড়ি…’ অর্ধশতক পর আবার সেই পুরনো স্কুলেই ফিরে সোনালি শৈশব বাঁচালেন প্রবীণরা!

‘মাঝে হলো ছাড়াছাড়ি…’ অর্ধশতক পর আবার সেই পুরনো স্কুলেই ফিরে সোনালি শৈশব বাঁচালেন প্রবীণরা!

স্কুলে যাওয়ার পথে সাইকেল রেস, টিফিনের টিফিনবক্স ভাগ করে খাওয়া কিংবা ক্লাসরুমের বেঞ্চে বসে খুনসুটি— স্মৃতির অ্যালবামে সেই রঙিন দিনগুলো কখনোই আবছা হয় না। বয়সের খাতার পাতা এগোলেও ছোটবেলার দিনগুলো যেন চিরসবুজ। আর সেই চিরন্তন শৈশবকেই ৫০ বছর পর ফের নতুন করে বাঁচিয়ে তুললেন ১৯৭৬ সালের একঝাঁক প্রবীণ সহপাঠী।

সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে রাকেশ নগর নামে এক ব্যক্তি একটি অসাধারণ ভিডিও শেয়ার করেছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, জীবনের ৫০টি বসন্ত পার করে ফেলার পর প্রবীণ বন্ধুরা আবার একত্র হয়েছেন নিজেদের পুরনো স্কুলে। তবে এটি আর পাঁচটা সাধারণ রিইউনিয়ন ছিল না— প্রত্যেকেই হাজির হয়েছিলেন স্কুলের ইউনিফর্ম পরে, গলায় ঝুলছিল সেই ছোটবেলার মতো জলের বোতল!

স্কুলের গেট পেরিয়ে ভেতরে ঢোকার মুহূর্তেই তাঁদের চেহারায় ফুটে ওঠে একচিলতে অমলিন হাসি। বয়সের ভার আর জীবনের সমস্ত ব্যস্ততা যেন এক নিমিষেই উধাও হয়ে যায়। স্কুলের মাঠে নেমে তাঁরা মাতেন পিট্টু আর ডাংগুলি খেলায়। ক্লাসরুমে ঢুকে হাত ধরে খেলেন ‘কু ঝিক ঝিক’ রেলগাড়ি খেলা। নাচ, গান, খুনসুটি আর অকৃত্রিম আড্ডায় যেন ফিরে আসে ১৯৭৬ সালের সেই পুরনো দিনগুলো।

ভিডিওটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “আমরা প্রায়ই ভাবতাম, সেই সোনালি স্মৃতিগুলো যদি আবার নতুন করে বাঁচিয়ে রাখা যেত! অবশেষে আমরা সিদ্ধান্ত নিই— যেখানে আমরা একসঙ্গে হেসেছি, খেলেছি এবং ভালোবাসার বন্ধনে জড়িয়েছি, সেখানেই আবার ফিরে যাব।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই ভিডিওটি ছুঁয়ে গিয়েছে হাজার হাজার মানুষের হৃদয়। কমেন্ট বক্সে আবেগে ভেসেছেন নেটিজেনরা। একজন লিখেছেন, “ভিডিওটি দেখে নিজের স্কুলের দিনগুলোর কথা খুব মনে পড়ে গেল।” অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, “জীবনকে উপভোগ করার কোনো বয়স হয় না, এই বন্ধুরা সেটাই প্রমাণ করে দিলেন।” প্রবীণ এই সহপাঠীদের মিষ্টি বন্ধন আর নস্টালজিয়া আরও একবার প্রমাণ করল— জীবনের যেকোনো মোড়েই শৈশবকে আবার নতুন করে ছুঁয়ে দেখা যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *