“উন্নতি না হলে সোজা তালা ঝুলবে!” শিলিগুড়ির নার্সিংহোমে স্বাস্থ্য কমিশনের আকস্মিক হানা, ফাঁস কঙ্কালসার ছবি

“উন্নতি না হলে সোজা তালা ঝুলবে!” শিলিগুড়ির নার্সিংহোমে স্বাস্থ্য কমিশনের আকস্মিক হানা, ফাঁস কঙ্কালসার ছবি

বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলিতে রোগীদের ন্যূনতম পরিষেবা এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো বজায় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে শিলিগুড়িতে নজিরবিহীন ঝটিকা অভিযান চালাল রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশন। শনিবার অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি একাধিক নার্সিংহোমে সারপ্রাইজ রেড চালায়। পরিদর্শনকালে একে একে নানা অনিয়ম, বিপজ্জনক পরিবেশ ও মারাত্মক পরিকাঠামোগত ঘাটতি সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন কমিশনের চেয়ারম্যান।

স্বাস্থ্য কমিশনের এই বিশেষ যৌথ প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (CMOH) তুলসী প্রামাণিকসহ পুলিশ প্রশাসন, পুরনিগম ও দমকল বিভাগের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা।

পরিদর্শনে যেসব ভয়াবহ দৃশ্য ধরা পড়ল:

  • গুদাম ও বেসমেন্টে রোগী রাখা: একাধিক নার্সিংহোমে দেখা যায়, স্যাঁতসেঁতে অন্ধকার বেসমেন্ট বা গুদামঘরে গাদাগাদি করে রোগীদের রাখা হয়েছে। সেখানে ছিল না আলো-বাতাসের সঠিক বন্দোবস্ত কিংবা পানীয় জলের ব্যবস্থা। এমনকি শৌচাগারের ন্যূনতম সুবিধাও মিলেনি।
  • বিপজ্জনক বৈদ্যুতিক পরিকাঠামো: রোগীদের বসার ঠিক পাশেই অরক্ষিত ও উন্মুক্ত অবস্থায় রাখা ছিল ভারী বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, যা যেকোনো মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
  • পার্কিং দখল করে ব্যবসা: একাধিক বহুতলের পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত জায়গা বেআইনিভাবে দখল করে দোকান ও ঘর তৈরি করার অভিযোগ উঠে এসেছে।
  • চিকিৎসকদের নথিপত্রে অস্বচ্ছতা: চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিপত্র পরীক্ষা করার সময় এক চিকিৎসক রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট দেখাতে ব্যর্থ হন। এছাড়া বেশ কিছু ডাক্তারখানা ও সাইনবোর্ডে চিকিৎসকদের বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রেশন নম্বর লেখা ছিল না।
  • সংকীর্ণ ভবনে বিপদজনক ভিড়: সরু ও অপ্রশস্ত ভবনে ঝুঁকিপূর্ণভাবে অতিরিক্ত বেড বসিয়ে নার্সিংহোম চালানোয় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে কমিশন। ঘটনাস্থলেই পুরনিগম ও দমকল আধিকারিকদের কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

কমিশন চেয়ারম্যানের কড়া হুঙ্কার:

অভিযান শেষে চরম গাফিলতি ও অনিয়মের অভিযোগে একাধিক নার্সিংহোমকে শোকজ করেছে স্বাস্থ্য কমিশন এবং অনিয়ম শুধরে নেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কমিশনের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেন, “রোগীদের ন্যূনতম পরিষেবা দিতেই হবে। আইনে যা উল্লেখ রয়েছে, তা অক্ষরে অক্ষরে মানা বাধ্যতামূলক। পরিস্থিতি দ্রুত উন্নত করতেই হবে; অন্যথায় অনিয়ম শুধরে না নেওয়া হলে নার্সিংহোমগুলিতে সরাসরি তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।”

কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষ হলে শিলিগুড়িতে ফের আকস্মিক পরিদর্শন করা হবে। এরপরও গাফিলতি মিললে সংশ্লিষ্ট নার্সিংহোমগুলির লাইসেন্স বাতিলসহ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *