বর্ধমানে এক রাতেই ৫ বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি! বিহারি গ্যাংকে খাঁচাবন্দি করে পুলিশের ফিল্মি চমক

বর্ধমানে এক রাতেই ৫ বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি! বিহারি গ্যাংকে খাঁচাবন্দি করে পুলিশের ফিল্মি চমক

একই রাতে পরপর পাঁচটি বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরি! তা-ও আবার সিসিটিভি ক্যামেরা ও ২৪ ঘণ্টার নিরাপত্তারক্ষীদের কড়া নজরদারির চোখ এড়িয়ে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে বর্ধমানের উল্লাস উপনগরীতে ঘটে যাওয়া এই হাড়হিম করা চুরির ঘটনার রুদ্ধশ্বাস যবনিকা টানল পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে বিহার থেকে আসা চার দুষ্কৃতীকে।

কী ঘটেছিল সে রাতে? উল্লাস উপনগরীর ২ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকার কয়েকটি বাড়ির বাসিন্দারা ভ্রমণে যাওয়া বা চিকিৎসার কারণে বাইরে ছিলেন। ফাঁকা বাড়ির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চড়াও হয় চোরেরা। পাঁচটি বাড়ির মধ্যে দুটি বাড়ি থেকেই নগদ প্রায় ৫০ হাজার টাকা এবং বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। সকালে ঘটনা জানাজানি হতেই আবাসন জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়ায়।

সিসিটিভি ফুটেজে রুদ্ধশ্বাস সাফল্য: নিরাপত্তার শক্ত বেষ্টনী গলে কীভাবে দুষ্কৃতীরা একের পর এক বাড়িতে ঢুকল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তদন্তে নামে বর্ধমান থানার পুলিশ। চুরির শিকার হওয়া বাড়িগুলির পাশাপাশি পুরো উপনগরীর সিসিটিভি ফুটেজ দফায় দফায় খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। সিসিটিভি ফুটেজ ধরে এগোতেই মেলে বিরাট সাফল্য। পুলিশ জানতে পারে, বিহার থেকে এসে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে চার অপরাধী।

ধৃতদের পরিচয়: ধৃত চার দুষ্কৃতীই বিহারের ভাগলপুর জেলার হনুমান চক থানা এলাকার বাসিন্দা। তারা হলো—

  • সুরেন্দর পাওয়ার
  • মিত আদিবাসী
  • দীপক কুমার
  • বিকাশ কারে

আদালত ও তদন্তের আপডেট: ধৃতদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া বেশ কিছু সামগ্রী উদ্ধার করতে পেরেছে পুলিশ। সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে রবিবার চারজনকেই বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। চুরি যাওয়া বাকি সোনা ও নগদ টাকা উদ্ধারসহ এই চক্রের মূল পাত্তাদের পাকড়াও করতে ৮ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হলে বিচারক ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বর্তমানে ধৃতদের মুখোমুখি বসিয়ে জোরদার জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *