সাইক্লোন না এলেও রক্ষা নেই! বঙ্গোপসাগরে ঘনাচ্ছে গভীর নিম্নচাপ, বাংলায় দুর্যোগের অ্যালার্ট

ঘূর্ণিঝড় তৈরির জল্পনা খারিজ হলেও এখনই স্বস্তি মিলছে না বঙ্গবাসীর। বঙ্গোপসাগরে শক্তিবৃদ্ধি করে অনড় অবস্থায় রয়েছে একটি শক্তিশালী নিম্নচাপ। আবহাওয়া দফতরের লেটেস্ট আপডেট অনুযায়ী, এটি আরও শক্তি সঞ্চয় করে অতিগভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে চলেছে। এর প্রভাবে আজ থেকেই দক্ষিণ থেকে উত্তর— রাজ্যজুড়ে শুরু হচ্ছে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মুষলধারে বৃষ্টি।
কোথায় রয়েছে এই নিম্নচাপ?
মঙ্গলবার সকালের বুলেটিন অনুযায়ী, মধ্য-পশ্চিম এবং সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত এই সিস্টেমটি গত ৬ ঘণ্টায় ১৭ কিমি গতিতে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে এসেছে। আপাতত এটি ওড়িশার গোপালপুর ও পুরী থেকে প্রায় ২২০ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্বে এবং বিশাখাপত্তনম থেকে ৩২০ কিমি পূর্বে অবস্থান করছে।
কবে ও কোথায় স্থলভাগে ঢুকবে?
আবহাওয়াবিদদের মতে, সিস্টেমটি আরও শক্তি বাড়িয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর রাত থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর ভোরের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম এবং ওড়িশার গোপালপুরের মধ্যবর্তী উপকূল এলাকা দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করবে।
দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া কেমন থাকবে?
নিম্নচাপের সরাসরি প্রভাবে আজ থেকেই দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টির দাপট বাড়বে।
- ভারী বৃষ্টির সতর্কতা: পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম এবং পুরুলিয়া।
- ঝড়ের গতিবেগ: জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
- কলকাতা: তিলোত্তমা কলকাতাতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবারেও এই দুর্যোগ অব্যাহত থাকবে।
উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ার পূর্বাভাস:
দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি প্রভাব পড়বে উত্তরবঙ্গেও।
- অতি ভারী বৃষ্টি: জলপাইগুড়ি জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
- ভারী বৃষ্টি: দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং উত্তর দিনাজপুরে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সিকিমেও বৃষ্টির দাপট বজায় থাকবে।
- উপকূল ও সংলগ্ন এলাকাগুলিতে ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।