রাজ্যে বন্ধ হাজার সরকারি স্কুল, বিশাল পরিকাঠামো নিয়ে বিরাট মাস্টারপ্ল্যান নবান্নের!

রাজ্যে একের পর এক সরকারি স্কুলে তালা ঝোলার করুণ চিত্র সামনে এসেছে। প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক— সর্বত্রই পড়ুয়ার চরম আকাল। পড়ুয়া সংখ্যা শূন্যে নেমে আসায় ইতিমধ্যেই রাজ্যে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছে ৯৩৩টি সরকারি স্কুল। এবার এই বন্ধ হয়ে যাওয়া স্কুলগুলির বিপুল জমি, মাঠ এবং বিল্ডিংকে জনস্বার্থে ব্যবহার করতে বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে রাজ্য সরকার।
৩০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেবে বিশেষ কমিটি
বন্ধ স্কুলের সম্পত্তি কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা খতিয়ে দেখতে জেলায় জেলায় বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলাশাসকদের (DM) নেতৃত্বে পরিচালিত এই কমিটিকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্কুলগুলির বর্তমান অবস্থা মূল্যায়নের পাশাপাশি এগুলিকে আদৌ পুনরায় চালু করা সম্ভব কি না, তা-ও স্পষ্টভাবে জানাবে এই কমিটি।
কী কাজে ব্যবহার হবে অব্যবহৃত সম্পত্তি?
রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন জানিয়েছেন, “স্কুল বিল্ডিং, জমি ও মাঠের সঠিক পরিমাণ খতিয়ে দেখতেই এই কমিটি। শিক্ষা দপ্তরের অধীনে থাকা এই সম্পত্তিগুলি প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে।”
নবান্ন সূত্রে ইঙ্গিত, এই অব্যবহৃত পরিকাঠামো ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, এআরডি কেন্দ্র, কমিউনিটি সেন্টার কিংবা জনপরিষেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হতে পারে।
পিপিপি (PPP) মডেলের জল্পনা খারিজ
বন্ধ হয়ে যাওয়া স্কুলগুলি বেসরকারি অংশীদারিত্বে বা ‘পিপিপি’ মডেলে চালানো হতে পারে বলে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, তা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, পিপিপি মডেলে কোনো স্কুল চালানো হবে— এমন কোনো সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা রাজ্য সরকারের নেই।