কৃষ্ণসাগরে জাহাজ চলাচলে ভারতের সাহায্য চাইল ইউক্রেন: নিউ ইয়র্কে জয়শঙ্কর-সিবিহা মেগা বৈঠক!

কৃষ্ণসাগরে জাহাজ চলাচলে ভারতের সাহায্য চাইল ইউক্রেন: নিউ ইয়র্কে জয়শঙ্কর-সিবিহা মেগা বৈঠক!

নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভার (UNGA) ফাঁকে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মুখোমুখি হলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা। কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে এই অঞ্চলে নৌচলাচল স্বাভাবিক করতে ভারতের সক্রিয় সাহায্য চেয়েছে ইউক্রেন।

খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষ্ণসাগরের গুরুত্ব বৈঠকে কৃষ্ণসাগরের নিরাপত্তা এবং বিশ্বজুড়ে খাদ্য সুরক্ষার ওপর এর প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ (X) সিবিহা জানান, বিশ্ববাজারে খাদ্য সামগ্রী সরবরাহ বজায় রাখতে কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্য পথ নিরাপদ রাখা অত্যন্ত জরুরি। ইউক্রেন এতে গঠনমূলক ভূমিকা নিতে প্রস্তুত এবং এই প্রক্রিয়ায় ভারতের অংশগ্রহণকে কিয়েভ অত্যন্ত সম্মান জানায়।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও বাণিজ্য বিস্তার বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে শান্তি ফেরানোর কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্র জোরদার করার বিষয়ে কথা হয়েছে। সিবিহা জানান:

  • খুব শিগগিরই ভারত-ইউক্রেন আন্তঃসরকারি কমিশনের পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
  • কৃষি, ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি (IT), বিজ্ঞান ও শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে উদ্ভাবনী ব্যবসার প্রসারে জোর দেবে দুই দেশ।

বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও এই বৈঠক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর সাম্প্রতিক ইউক্রেন সফরের পর থেকে গত কয়েক সপ্তাহে ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে কী কী পরিবর্তন এসেছে, তা নিয়ে সিবিহার সঙ্গে কার্যকর আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

রাষ্ট্রসংঘে জয়শঙ্করের বহুপাক্ষিক কূটনীতি শুধু ইউক্রেন নয়, নিউ ইয়র্ক সফরকালে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বৈঠকে অংশ নেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী:

  • মলডোভার সঙ্গে বৈঠক: মলডোভার বিদেশমন্ত্রী মিহাই পপসোইয়ের সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া এবং ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে মতামত বিনিময় করেন জয়শঙ্কর।
  • P4M সামিটের সহ-সভাপতিত্ব: ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তার সঙ্গে ‘পার্টনারস ফর মাল্টিল্যাটারালিজম, ইন্টারন্যাশনাল ল, পিস অ্যান্ড প্রসপারিটি’ (P4M) সামিটে সহ-সভাপতিত্ব করেন তিনি।

চলমান বিশ্বব্যাপী উত্তেজনা ও সংঘাতের আবহে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা, বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কার এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *