ডেঙ্গি কাবু করল কঙ্কনাকে! জ্বর কমলেও কেন এখনই স্বস্তি নয়? চিকিৎসকদের বড় সতর্কতা

ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে সম্প্রতি হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল জনপ্রিয় অভিনেত্রী কঙ্কনা সেন শর্মাকে। বর্তমানে তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং সমাজমাধ্যমে নিজের শারীরিক অবস্থার আপডেট দিয়ে ভক্তদের সতর্কও করেছেন। কঙ্কনার এই ঘটনা আরও একবার মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, ডেঙ্গির জ্বর নেমে যাওয়া মানেই রোগ থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি নয়। বরং জ্বর কমার পর থেকেই শুরু হয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব।
জ্বর কমলেই বাড়ে জটিলতার ঝুঁকি চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গির জ্বর কমে যাওয়ার সময়টাই সবচেয়ে স্পর্শকাতর। এই সময়েই অনেকের শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। জ্বর কমলেও বেশ কিছুদিন প্রচণ্ড দুর্বলতা, ক্লান্তি, গা-হাত-পায়ে ব্যথা, মাথা ঘোরা এবং খাবারে অরুচির মতো সমস্যা থেকে যায়।
জল ও খাদ্যাভ্যাসে বাড়তি নজর
- পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ: বমি বা জ্বরের কারণে শরীরে তৈরি হওয়া জলের ঘাটতি মেটাতে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে প্রচুর জল, ওআরএস, স্যুপ বা ডাবের জল খাওয়া জরুরি। (তবে জলপানের ওপর কোনো চিকিৎসা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে)।
- সহজপাচ্য ও প্রোটিনযুক্ত খাবার: খিদে ধীরে ধীরে ফিরলে হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। পর্যাপ্ত প্রোটিন শরীরের হারিয়ে যাওয়া শক্তি ফেরাতে সাহায্য করে।
জিম বা ভারী কসরতে তাড়া নয় জ্বর ছেড়ে যাওয়া মানেই শরীর কঠিন পরিশ্রমের জন্য প্রস্তুত—এমন ভাবা ভুল। ডেঙ্গির পরপরই জিম, ভারী ওজন তোলা বা কঠিন শরীরচর্চায় ফিরে গেলে ক্লান্তি আরও বাড়বে। শরীর পুরোপুরি সাড়া দিলে এবং চিকিৎসকের সম্মতি পেলেই কাজের মাত্রা বাড়ানো উচিত।
প্লেটলেটই শেষ কথা নয় সাধারণত প্লেটলেটের সংখ্যা নিয়ে বেশি চিন্তা থাকলেও শুধু রক্তপরীক্ষার রিপোর্ট দেখে সুস্থতার সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। রোগীর সামগ্রিক উপসর্গ, শরীরের জলের ভারসাম্য এবং রক্তের অন্যান্য উপাদান বিচার করেই চিকিৎসকরা সুস্থতার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন জ্বর কমার পরও যদি তীব্র পেটব্যথা, ঘন ঘন বমি, নাক বা মাড়ি থেকে রক্তপাত, অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব, শ্বাসকষ্ট বা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়ার মতো বিপদচিহ্ন দেখা দেয়, তবে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া প্রয়োজন।
ডেঙ্গি থেকে সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়াটি কেবল জ্বর কমার মধ্য দিয়ে শেষ হয় না। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাবিধি মেনে চললেই আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরা সম্ভব।