আইআইটি বম্বে ছাত্রের মৃত্যুর আগের সিসিটিভি ফুটেজ সামনে! পরীক্ষার হলে ঠিক কী ঘটেছিল?

আইআইটি বম্বে ছাত্রের মৃত্যুর আগের সিসিটিভি ফুটেজ সামনে! পরীক্ষার হলে ঠিক কী ঘটেছিল?

আইআইটি বম্বের (IIT Bombay) বি.টেক চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্র সাহিল ওয়াকোড়ের (২২) রহস্যমৃত্যুর তদন্তে এবার মূল হাতিয়ার পুলিশের হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজ। পরীক্ষার হল থেকে শুরু করে হোস্টেলের করিডোর— সাহিলের জীবনের শেষ কয়েক ঘণ্টার গতিবিধি নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করে ঘটনার সময়ক্রম পুনর্নির্মাণ করছে মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চ।

পরীক্ষার হলের সেই শেষ ১৫ মিনিট পুলিশ সূত্রে খবর, মিড-সেমিস্টার পরীক্ষা চলাকালীন দুপুর ১২:৩০ থেকে ১২:৪৫-এর সিসিটিভি ফুটেজ গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, পরীক্ষা শেষ হওয়ার ঠিক কিছুক্ষণ আগে সাহিল ঝুঁকে নিজের পকেটে রাখা কোনও জিনিসের দিকে তাকাচ্ছিলেন। বিষয়টিকে সন্দেহজনক মনে হওয়ায় হলের দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক তাঁকে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং অন্য পরীক্ষার্থীদের থেকে আলাদা সরিয়ে নেন। সিসিটিভিতে কিছুক্ষণ কথোপকথনের পর সাহিলকে পরীক্ষার হল ছেড়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।

হোস্টেলের ঘরে সাহিলের শেষ পথচলা ক্যাম্পাসের সিসিটিভি ফুটেজ ধরে তদন্ত এগোতেই জানা যায়, দুপুর ১:২৫ নাগাদ সাহিল নিজের হোস্টেলের ঘরে ঢোকেন। এরপর তিনি আর বাইরে আসেননি। পরবর্তীতে শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘরের ভেতর থেকেই তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত সাহিল মহারাষ্ট্রের ইয়াবাতমাল জেলার বাসিন্দা এবং এনার্জি সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ছিলেন।

চ্যাটজিপিটি বিতর্ক ও গুরুতর অভিযোগ প্রাথমিকভাবে অভিযোগ ওঠে, সাহিল পরীক্ষার হলে ‘চ্যাটজিপিটি’ (ChatGPT) ব্যবহার করে নকল করছিলেন এবং সেই কারণেই তাঁকে ধরা হয়। তবে সাহিলের পরিবার এটিকে কেবল নকলের ঘটনা হিসেবে দেখতে নারাজ। তাঁদের দাবি, সাহিলকে পরিকল্পিতভাবে প্রাতিষ্ঠানিক হেনস্থা ও জাতিগত বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছিল। অন্যায়ভাবে অ্যাকাডেমিক সাসপেনশনের হুমকি দেওয়ায় সেই মানসিক চাপ তিনি সহ্য করতে পারেননি।

পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মুম্বই পুলিশ আইআইটির তৎকালীন ডিন সুর্যনারায়ণ ডুল্লার বিরুদ্ধে তফশিলি জাতি ও তফশিলি উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৮ ধারায় (আত্মহত্যায় প্ররোচনা) মামলা রুজু করেছে। বিতর্ক বাড়ায় তাঁকে ডিনের পদ থেকে সরানো হলেও তিনি এখনও অধ্যাপক পদে বহাল রয়েছেন। এদিকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও অভিযুক্ত অধ্যাপককে অবিলম্বে সম্পূর্ণ সাসপেন্ড করার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে একাধিক ছাত্র সংগঠন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *