২ মাসের বেতন বন্ধ! পুরসভার গেটে জঞ্জাল ফেলে রণক্ষেত্র জলপাইগুড়ি, নোংরার পাহাড়ে ঢাকল শহর

রাজনৈতিক টানাপোড়েন আর প্রশাসনিক অচলাবস্থার জেরে কার্যত ‘অভিভাবকহীন’ জলপাইগুড়ি। আর এই প্রশাসনিক জটের বলি হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। গত দুই মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কাজ বন্ধ করেছেন পুরসভার অস্থায়ী সাফাই কর্মীরা। তার জেরে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই গোটা শহর পরিণত হয়েছে বিশালাকার আস্তাকুঁড়ে।
জঞ্জালের স্তূপে ঢাকা শহর অলিগলি থেকে শুরু করে মূল সড়ক— জলপাইগুড়ির সর্বত্র এখন ময়লা-আবর্জনা জমতে শুরু করেছে। তীব্র দুর্গন্ধ ও মাছি-মশার উপদ্রবে পথচলা দায় হয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। দৈনন্দিন পরিষেবা স্তব্ধ হয়ে পড়ায় ক্ষোভ বাড়ছে শহরবাসীর মধ্যে।
পুরসভার গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ সোমবার সকালেই পুরসভার মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন ক্ষুব্ধ সাফাই কর্মীরা। শুধু তাই নয়, প্রতিবাদ স্বরূপ পুরসভার প্রধান গেটের সামনেই জঞ্জাল ফেলে বিক্ষোভ দেখানো হয়। ‘জলপাইগুড়ি সাফাইকর্মী ঐক্য মঞ্চের’ সভাপতি প্রতাপ রাউত সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বকেয়া বেতন না মেটা এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন একচুলও সরবে না।
আইনি জটে আটকে পুরপরিষেবা গত জুলাই মাসের শেষ দিক থেকেই এই অস্থিরতার সূচনা। পুরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এবং পর পর কাউন্সিলরদের পদত্যাগের ফলে অচলাবস্থা তৈরি হয়।
- বোর্ড ভেঙে প্রশাসক বসানো হলেও আদালতের দ্বারে যান কাউন্সিলরদের একাংশ।
- হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে নতুন বোর্ড গঠনের বৈঠক ডাকা হলেও কোরামের অভাবে তা স্থগিত হয়ে যায়।
- দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মাঝে পড়ে চরম আর্থিক অনটনে দিন কাটাচ্ছেন চুক্তিভিত্তিক প্রান্তিক সাফাই কর্মীরা।
কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার দেবদুলাল পাত্র জানান, পুরো বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে সাফাই ব্যবস্থা কবে স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস দিতে পারেননি। দ্রুত এই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে শহরের নিকাশি ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার দাবি তুলেছেন স্থানীয় বিধায়ক সহ সাধারণ মানুষ।