১২ বছর লাগবে কাজ শেষ হতে? ট্রাইবুনালে ঝুলছে ৩৭ লক্ষ আবেদন, সুপ্রিম কোর্টে ফাঁস কমিশনের তথ্য!

১২ বছর লাগবে কাজ শেষ হতে? ট্রাইবুনালে ঝুলছে ৩৭ লক্ষ আবেদন, সুপ্রিম কোর্টে ফাঁস কমিশনের তথ্য!

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকায় নাম তোলা এবং বাদ দেওয়া নিয়ে গঠিত ট্রাইবুনালের কাজকর্মে চরম ধীরগতির চিত্র ধরা পড়ল সুপ্রিম কোর্টে। নির্বাচন কমিশনের পেশ করা রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাইবুনালে জমা পড়া প্রায় ৩৮ লক্ষ আবেদনের মধ্যে ৩৭ লক্ষের বেশি এখনও অমীমাংসিত। বর্তমান গতিতে কাজ চললে এই বিপুল বকেয়া মেটাতে ১২ বছরেরও বেশি সময় লেগে যাবে!

একনজরে কমিশনের পেশ করা রিপোর্ট:

  • মোট জমা আবেদন: ৩৮ লক্ষ ৩১ হাজার ৪২৯টি (১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত)।
  • নিষ্পত্তি হয়েছে: মাত্র ১ লক্ষ ২৬ হাজার ১৯৪টি।
  • ঝুলে রয়েছে: ৩৭ লক্ষ ৫ হাজার ২৩৫টি আবেদন।

কমিশন সূত্রে খবর, বকেয়া আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে রাজ্যে ট্রাইবুনালের সংখ্যা বাড়িয়ে ৪২টি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

শুভেন্দুর দাবির সঙ্গে অমিল তথ্য: এর আগে রাজ্যে ৬০ লক্ষের বেশি ভোটারকে ‘বিচারাধীন’ রাখা হয়েছিল, যার মধ্যে ৩৩ লক্ষ মানুষকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা তালিকায় ফেরান। বাকি ২৭ লক্ষের জন্য ট্রাইবুনাল গঠিত হয়। কিছুদিন আগে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন, ২৭ লক্ষের মধ্যে মাত্র ৭ লক্ষ মানুষ আবেদন করেছেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে কমিশন জানায়, ওই ২৭ লক্ষের মধ্যে ২২ লক্ষ ২১ হাজার ১১৮ জন আবেদন করেছেন। এছাড়া ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করে আরও ১৬ লক্ষ ১০ হাজার ৩১১টি আবেদন জমা পড়েছে।

আবেদনের পাহাড়ে শীর্ষে যে জেলাগুলি:

  • মুর্শিদাবাদ: জমা পড়েছে ৭,৪৭,৯২১টি আবেদন, যার মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ৫১৪টির!
  • মালদহ: জমা পড়েছে ৫,৩১,৩৪৫টি, নিষ্পত্তি ১,৫১৪টির।
  • উত্তর ২৪ পরগনা: জমা ৩,৫৯,৩৭৫টি, নিষ্পত্তি মাত্র ৩০১টির।
  • দক্ষিণ ২৪ পরগনা: জমা ৩,২১,৭৫৪টি, নিষ্পত্তি ২২,০৪৯টির।

ধীরগতির কারণ ও পরবর্তী পদক্ষেপ: কেন এত ধীরে কাজ চলছে? ট্রাইবুনালে গঠিত পরিকাঠামোর অভাবকে মূল কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। ট্রাইবুনাল জানিয়েছে, এযাবৎ কেবল নাম বা তথ্যের ছোটখাটো ভুল শুধরে দেওয়া হয়েছে, মূল শুনানির কাজ এখনও শুরুই হয়নি। চলতি সপ্তাহ থেকে আবেদনকারীদের কাছে নোটিস পাঠানো শুরু হবে।

অন্য দিকে, আবেদনকারীদের আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন অন্যতম মামলাকারী অধীররঞ্জন চৌধুরী ও তাঁর আইনজীবী ফিরদৌস শামিম।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *