তৃণমূলের ২০ ‘বিদ্রোহী’ সাংসদের পদ খারিজের সিদ্ধান্ত ঝুলে? স্পিকারের দরবারে ফের সুদীপ-কাকলিরা!

তৃণমূলের ২০ ‘বিদ্রোহী’ সাংসদের পদ খারিজের সিদ্ধান্ত ঝুলে? স্পিকারের দরবারে ফের সুদীপ-কাকলিরা!

নয়াদিল্লি: তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া (NCPI)-তে যোগ দেওয়া ২০ জন লোকসভা সাংসদের সদস্যপদ খারিজ মামলার জল গড়াচ্ছে আরও বহুদূর। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার পাঠানো নোটিসের উত্তর দেওয়ার সময়সীমা ২২ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার মুখেই ফের স্পিকারের কাছে বাড়তি সময় চেয়ে আবেদন জানালেন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদরা। সূত্রের খবর, উত্তর প্রস্তুত ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের জন্য সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের শিবির ২২ অক্টোবর পর্যন্ত অর্থাৎ আরও চার সপ্তাহের সময়সীমা চেয়েছে।

ঘটনার পেছনের ইতিহাস: চলতি বছরের জুন মাসে আচমকাই তৃণমূলের ২০ জন লোকসভা সাংসদ দল ত্যাগ করে NCPI-তে যোগ দেন। এর পরপরই তাঁদের বিরুদ্ধে দলবদল-বিরোধী আইনের আওতায় সদস্যপদ খারিজের জোরালো দাবি তোলে তৃণমূল কংগ্রেস। জোড়াফুল শিবিরের সাধারণ সম্পাদক ও লোকসভা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকারের কাছে এ বিষয়ে পৃথক আইনি আবেদন দায়ের করেন।

এরপর গত ২৬ অগস্ট লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ওই ২০ জন সাংসদকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠিয়ে প্রথমে ৭ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলেন। পরে সাংসদদের আর্জিতে সাড়া দিয়ে জবাবের সময় বাড়িয়ে ২২ সেপ্টেম্বর করা হয়েছিল।

আইনি জটিলতা ও রাজনীতির সমীকরণ: এই মামলায় জলঘোলা কমাতে এবং দ্রুত স্পিকারের সিদ্ধান্ত পেতে তৃণমূল ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের দরজায় কড়া নেড়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনের ভিত্তিতে শীর্ষ আদালত বিষয়টি শুনতে সম্মত হয়েছে। এই মামলায় মূলত আইনি প্রশ্ন উঠেছে—একটি দলের দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ একসঙ্গে দল ছাড়লে দলবদল-বিরোধী আইনের সুরক্ষা পাবেন কি না।

এখন দেখার বিষয়, বিদ্রোহী সাংসদদের আবেদন মেনে স্পিকার ওম বিড়লা কি তাঁদের ২২ অক্টোবর পর্যন্ত চার সপ্তাহ সময় দেবেন, নাকি আগের চিঠির ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। লোকসভায় তৃণমূলের এই ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের ভবিষ্যৎ কী হয়, তার ওপর নির্ভর করছে কেন্দ্রের লোকসভার অন্যতম বড় রাজনৈতিক সমীকরণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *