‘ছোট শহরের ছেলের স্বপ্নপূরণ!’ জাতীয় পুরস্কার হাতে পেয়ে আবেগঘন কার্তিক আরিয়ান

গুজরাটের একতা নগরে স্ট্যাচু অফ ইউনিটির কাছে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে ‘সেরা অভিনেতা’র জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার গ্রহণ করলেন কার্তিক আরিয়ান। ‘চন্দু চ্যাম্পিয়ন’ ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য দেশের অন্যতম সেরা এই সম্মানে ভূষিত হলেন তিনি। সম্মান হাতে পেয়ে নিজের উচ্ছ্বাস ও আবেগ ধরে রাখতে পারেননি এই তারকা।
‘ছোট শহরের ছেলের স্বপ্নপূরণ’ গোয়ালিয়রের মতো ছোট শহর থেকে এসে বলিপাড়ায় নিজের শক্ত জায়গা তৈরি করা একেবারেই সহজ ছিল না। পুরস্কার পাওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করে কার্তিক লেখেন, “গোয়ালিয়রের এক মায়ের আদুরে ছেলে অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল। যে পরিবেশ থেকে আমি উঠে এসেছি, সেখানে এই ধরনের স্বপ্নের কথা শুনলে মানুষ হেসে উড়িয়ে দিত। আজ অবশেষে আমি সেই মুহূর্তটা বাঁচলাম।”
তিনি আরও যোগ করেন, “উত্তেজনা আর নার্ভাসনেসে এখনও হাত-পা অবশ হয়ে আসছে। এটা শুধু একটা ছোট শহরের ছেলের স্বপ্ন নয়, দেশের প্রত্যেকটা অভিনেতার স্বপ্ন। জাতীয় পুরস্কার হাতে আজ বলতে ইচ্ছে করছে— ‘চন্দু নহি, চ্যাম্পিয়ন হ্যায় ম্যায়’।”
কঠিন সাধনা ও ‘রসমালাইয়ের মতো মিষ্টি’ সাফল্য ভারতের প্রথম প্যারালিম্পিক সোনাজয়ী অ্যাথলিট মুরলীকান্ত পেটকরের জীবনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে ২০২৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘চন্দু চ্যাম্পিয়ন’। পর্দায় চন্দুর চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে কার্তিককে কঠোর শারীরিক প্রশিক্ষণ ও কঠিন ডায়েটের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল।
ছবিটির পরিচালক কবীর খান ও প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালাকে ধন্যবাদ জানিয়ে কার্তিক বলেন, “এই জার্নিটা ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক ছিল, কিন্তু শেষপর্যন্ত এর ফলটা রসমালাইয়ের মতো মিষ্টি! পর্দায় এই দায়িত্বটা দেওয়ার জন্য কবীর স্যার ও সাজিদ স্যারের কাছে আমি চিরকাল ঋণী থাকব।”
বাবা-মা ও দেশের প্যারালিম্পিয়ানদের উৎসর্গ নিজের এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হিসেবে বাবা-মায়ের আশীর্বাদ এবং বন্ধুদের সাপোর্টের কথা স্মরণ করেছেন অভিনেতা। কঠিন সময়ে নিজের প্রতি বিশ্বাসই তাঁকে পথ দেখিয়েছে বলে তিনি জানান। একইসঙ্গে নিজের এই ঐতিহাসিক জাতীয় পুরস্কারটি দেশের সমস্ত প্যারালিম্পিয়ান অ্যাথলিটদের উৎসর্গ করেছেন কার্তিক আরিয়ান।