পুলিশ সেজে পার্কের ভেতরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ! এনকাউন্টারের পর গ্রেপ্তার ৩ অভিযুক্ত

নয়াদিল্লি: খাস রাজধানী দিল্লিতে ফের রক্ষকই ভক্ষক! কালকাজি এলাকায় পুলিশ পরিচয়ে ১৭ বছরের এক নাবালিকাকে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যেই তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের মধ্যে একজনকে ধরতে গেলে সে গুলি চালায়, পাল্টা এনকাউন্টারে পায়ে গুলি লেগে জখম হয় আসিফ নামে মূল অভিযুক্ত। ধৃত বাকি দুজন আবার পেশায় আইনজীবী ও বিএসসি-র ছাত্র।
পার্কের ভেতরে পিস্তল-ছুরি দেখিয়ে তাণ্ডব পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা কিশোরী হরিয়ানার ফরিদাবাদের বাসিন্দা। সোমবার এক বন্ধুর সঙ্গে দিল্লিতে ঘুরতে এসেছিল সে। কালকাজি মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর তারা দু’জনে মন্দির ও ইসকনের মাঝামাঝি ‘আস্থা কুঞ্জ’ পার্কে যায়। সেই সময়ই আসিফ, হেমন্ত ও মুকেশ— এই তিনজন নিজেদের পুলিশকর্মী বলে পরিচয় দিয়ে তাদের আটকে দাঁড়ায়। অভিযোগ, আগ্নেয়াস্ত্র ও ছুরি দেখিয়ে ভয় দেখিয়ে কিশোরীকে নির্জন জায়গায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাকে গণধর্ষণ করা হয়। ঘটনা নিয়ে মুখ খুললে খুনের হুমকিও দেয় দুষ্কৃতীরা।
মধ্যরাতে চিরুনি তল্লাশি ও সশস্র এনকাউন্টার সোমবার রাত প্রায় পৌনে ৯টা নাগাদ পিসিআর (PCR) কল মারফত ঘটনার খবর পায় পুলিশ। খবর পেয়েই অমর কলোনি থানার পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং কিশোরীকে উদ্ধার করে এইমস (AIIMS)-এ স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পাঠায়। অমর কলোনি থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং পকসো (POCSO) আইনে মামলা দায়ের করে তল্লাশিতে নামে পুলিশ।
অভিযুক্ত আসিফের অবস্থান চিহ্নিত করে ডিএম অফিস রোড এলাকায় ফাঁদ পাতা হয়। পুলিশ তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিলে আসিফ পুলিশকে লক্ষ্য করে ৩ রাউন্ড গুলি চালায়। এর মধ্যে একটি গুলি হেড কনস্টেবল রাজেশের বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটে লাগে। পাল্টা আত্মরক্ষায় পুলিশ গুলি চালালে আসিফের ডান পায়ে গুলি লাগে। পরে তাকে আহত অবস্থায় এইমস ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়। এরপর শ্রীনিবাসপুরী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় অন্য দুই অভিযুক্ত দুই ভাই হেমন্ত ও মুকেশকে। তাদের মধ্যে একজন আইনজীবী এবং অন্যজন গণিতের শেষ বর্ষের ছাত্র। তবে ধৃতদের বাবা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তাঁর ছেলেদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে।
১০ দিনে ৪ নাবালিকা নিগ্রহ, তীব্র চাঞ্চল্য স্বরূপনগর, সদরবাজার, কিষানগঞ্জের পর কালকাজি— গত ১০ দিনের মধ্যে দিল্লিতে এটি চতুর্থ নাবালিকা নির্যাতনের ঘটনা। রাজধানীর বুকে পর পর এই ধরনের ঘটনায় নারী সুরক্ষা নিয়ে তীব্র তোলপাড় শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির।