একই দিনে জন্ম কেন? ভোটার তালিকায় নাম রাখতে ‘যমজ’ প্রমাণের আজব ফতোয়া!

একই দিনে জন্ম কেন? ভোটার তালিকায় নাম রাখতে ‘যমজ’ প্রমাণের আজব ফতোয়া!

নয়াদিল্লি: নির্বাচন কমিশনের সফটওয়্যারের গ্যাঁড়াকলে পড়ে চরম বিপাকে দিল্লির বাসিন্দারা। দুই ভাই-বোনের জন্ম কীভাবে একই দিনে হলো, কিংবা দুই সন্তানের বয়সের ব্যবধান কেন নয় মাসের কম—এমন অদ্ভুত যুক্তিতে ভোটারদের পাঠানো হচ্ছে কারণ দর্শানোর নোটিস। বিশেষ করে যমজ ভাই-বোনের ক্ষেত্রে অহেতুক প্রশ্নের মুখে পড়ে পুনরায় প্রমাণের নথি জমা দিতে বাধ্য হচ্ছেন বহু ভোটার।

হয়রানির আসল চিত্র:

  • যমজ ও বয়সের ফারাক: দুই সন্তানের জন্মের মধ্যে ব্যবধান ৯ মাসের কম হওয়ায় ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিস পাঠানো হয়েছে ২ লক্ষ ৮ হাজার ৬৯৭ জনকে।
  • অধিক সন্তান: দম্পতির ছ’টির বেশি সন্তান থাকলেও প্রকাশ করা হয়েছে সন্দেহ; নোটিস গিয়েছে ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ৪৯২ জনের কাছে।
  • মোট নোটিস: সংশোধনী প্রক্রিয়ায় দিল্লিজুড়ে মোট ৩২ লক্ষ ২৭ হাজার ৪৪৩ জন ভোটারকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা যুক্তিসংগত বৈসাদৃশ্যের নোটিস দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার আগে দিল্লিতে মোট ভোটার ছিলেন ১ কোটি ৪৫ লক্ষ ১০ হাজার ২৯৯ জন। সংশোধিত খসড়া তালিকায় সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৯৭ লক্ষ ৫৩ হাজার ৫৭৭-এ। অর্থাৎ শুরুতেই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন সাড়ে ৪৭ লক্ষের বেশি ভোটার।

কমিশনের ব্যাখ্যা: এই বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র আশিস গোয়েল জানান, কমিশনের ডেটা যাচাইয়ের সফটওয়্যারে নির্দিষ্ট প্রোগ্রামিং করা রয়েছে। সেই অ্যালগরিদম অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে নোটিসগুলো তৈরি হচ্ছে। তবে নোটিস পাওয়ার মানেই ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নয়; নির্দিষ্ট বিএলও-র (BLO) কাছে সঠিক প্রামাণ্য নথি জমা দিলেই ভোটার তালিকায় নাম উঠে যাবে।

বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্টে: লক্ষ লক্ষ ভোটারের পুনর্নথি জমা দেওয়ার এই হয়রানি নিয়ে জল গড়িয়েছে শীর্ষ আদালতেও। শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মন্তব্য করেন, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেই এই সমস্যা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনকে এ ব্যাপারে আরও সজাগ হওয়া প্রয়োজন। সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনের লিখিত জবাব তলব করে নোটিস জারি করেছে; মামলার পরবর্তী শুনানি দু’সপ্তাহ পর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *