কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম ‘উধাও’! ৬৪ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এফআইআরের কড়া নির্দেশ

কলকাতা: করোনা মহামারীর সময় গ্রামীণ এলাকার স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নত করতে কেনা কোটি কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম চুরির ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, রাজ্যের ১২টি জেলার অন্তত ৬৪টি সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে গায়েব হয়ে গিয়েছে মূল্যবান টেলি-মেডিসিন ও অন্যান্য চিকিৎসা যন্ত্রপাতি।
এই জালিয়াতি ও অনিয়মের প্রেক্ষিতে চরম কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে স্বাস্থ্য ভবন। সংশ্লিষ্ট সবকটি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের (CMOH) অবিলম্বে থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কোথায় কত চুরি? হাওড়ায় সবচেয়ে বড় আঘাত স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, যে ৬৪টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এই চুরির ঘটনা ঘটেছে, তার মধ্যে রয়েছে ৫০টি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র, ১৩টি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ১টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় এই অনিয়মের জাল বিস্তৃত হলেও, তালিকার শীর্ষে রয়েছে হাওড়া জেলা। হাওড়ার ২৫টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে যন্ত্রপাতি উধাও হয়েছে—যার মধ্যে ১৮টি সাঁকরাইল ব্লকে এবং ৭টি শ্যামপুর ২ নম্বর ব্লকে অবস্থিত।
কোটি কোটি টাকার কেন্দ্রীয় বরাদ্দ ২০২১-২২ সালে করোনার প্রকোপ সামলাতে এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে পঞ্চদশ অর্থ কমিশন ও জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের (NHM) অধীনে কেন্দ্রীয় সরকার মোট ৮,৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ পেয়েছিল ৮২৯ কোটি টাকা। সেই বিপুল তহবিলের একটি বড় অংশ খরচ করে গ্রামীণ টেলি-মেডিসিন প্রকল্পের জন্য এসব অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছিল। ২০২৪ সালেও যন্ত্রপাতির সঠিক দেখভাল ও ব্যবহারের তাগিদ দিয়ে জেলাশাসক ও CMOH-দের চিঠি দেওয়া হয়েছিল।
দায়ীদের বেতন থেকে টাকা কাটার কড়া পদক্ষেপ সরকারি অর্থের এই তছরুপের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—যে সমস্ত কেন্দ্রে যন্ত্রপাতি গায়েব হয়েছে, সেখানকার দায়িত্বে থাকা মেডিক্যাল অফিসার, বিএমওএইচ (BMOH), কমিউনিটি হেলথ অফিসার (CHO) কিংবা নার্সদের সরাসরি জবাবদিহি করতে হবে।
তদন্তে গাফিলতি বা অসদুপায় প্রমাণিত হলে খোয়া যাওয়া সরঞ্জামের আনুমানিক মূল্য হিসেব করে সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ও কর্মচারীদের বেতন থেকে কেটে নেওয়া হবে। স্বাস্থ্য ভবনের এক আধিকারিকের স্পষ্ট বক্তব্য, “সাধারণ মানুষের পরিষেবার জন্য পাঠানো সরকারি সম্পত্তি উধাও হওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। যাঁদের হেফাজতে এই সরঞ্জাম ছিল, দায় তাঁদেরই নিতে হবে। আইনানুগ ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে বেতন কেটে ক্ষতির টাকা উদ্ধার করা হবে।”