বাবা-মায়ের হাঁটা ও কথা বলার ভঙ্গি কি হঠাৎ বদলে যাচ্ছে? অলক্ষ্যে বাসা বাঁধছে না তো অ্যালজাইমার্স!

বাবা-মায়ের হাঁটা ও কথা বলার ভঙ্গি কি হঠাৎ বদলে যাচ্ছে? অলক্ষ্যে বাসা বাঁধছে না তো অ্যালজাইমার্স!

বয়স বাড়লে বাবা-মায়ের টুকটাক ভুলে যাওয়ার অভ্যাসকে আমরা অনেকেই ‘বার্ধক্যের স্বাভাবিক নিয়ম’ বলে উড়িয়ে দিই। নিকটাত্মীয়ের নাম মনে করতে না পারা, দরকারি কাজের কথা ভুলে যাওয়া কিংবা একই প্রশ্ন বারবার করার মতো ঘটনাগুলোকে আমরা সাধারণত এড়িয়েই চলি। কিন্তু মস্তিষ্কের কাজ কি শুধু পুরোনো স্মৃতি জমিয়ে রাখা? গবেষকরা বলছেন, স্মৃতির বাইরেও অত্যন্ত সূক্ষ্ম কিছু বাহ্যিক সংকেতে লুকিয়ে থাকতে পারে অ্যালজাইমার্স বা ডিমেনশিয়ার মতো জটিল ব্যাধির প্রাথমিক লক্ষণ।

হাঁটার ভঙ্গিতে আচমকা পরিবর্তন

ঘরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে হেঁটে যাওয়া বা সামান্য কাজের জন্য চলাফেরা করার পেছনেও মস্তিষ্কের জটিল সমন্বয় কাজ করে। শরীরে ভারসাম্য বজায় রাখা, দিক ঠিক করা কিংবা চারপাশের পরিবেশ বুঝে পা ফেলার জন্য মস্তিষ্ককে প্রতিনিয়ত সংকেত পাঠাতে হয়। তাই স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়ার অনেক আগেই, কোনো মানুষের হাঁটাচলার ধরণ দেখে অ্যালজাইমার্স শনাক্ত করা সম্ভব।

যে প্রবীণ মানুষটি এতদিন সাবলীলভাবে হাঁটাচলা করতেন, তিনি যদি হঠাৎ করে খুব ধীরগতিতে ও ছোট ছোট পদক্ষেপে হাঁটতে শুরু করেন, তবে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। হাঁটার সময় মোড় নিতে গিয়ে ইতস্তত করা কিংবা সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করার সময় আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা দেওয়া মস্তিষ্কের এক গোপন সংকেত হতে পারে।

অবশ্যই হাঁটার ভঙ্গি বদলালেই যে নিশ্চিত অ্যালজাইমার্স, তা নয়। হাড়ের সমস্যা, বাতের ব্যথা, দৃষ্টিশক্তির খামতি বা অন্য কোনো শারীরিক কারণেও হাঁটাচলা পাল্টাতে পারে। তবে স্পষ্ট কোনো বাহ্যিক শারীরিক কারণ ছাড়াই যদি চলাফেরা আচমকা বদলে যায়, তবে তাকে স্রেফ বয়সের দোষ বলে এড়িয়ে যাওয়া মস্ত বড় ভুল হতে পারে।

কথোপকথনে সমস্যা ও শব্দ খুঁজে না পাওয়া

শুধু চলাফেরা নয়, কথোপকথনও মনের বহু অজানা সংকেত প্রকাশ করে দেয়। কথা বলতে বলতে দু-একটা সাধারণ শব্দ ভুলে যাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু যদি দেখেন আপনার প্রিয়জন খুব পরিচিত ও সাধারণ শব্দ খুঁজে পেতে রীতিমতো সমস্যায় পড়ছেন কিংবা বাক্যের মাঝপথে আচমকা খেই হারিয়ে ফেলছেন, তবে সাবধান হওয়া জরুরি। অনিচ্ছাসত্ত্বেও কথা বলা বন্ধ করে দেওয়া, কথাবার্তায় জড়িয়ে যাওয়া কিংবা একই কথা বারবার বলার প্রবণতা মস্তিষ্কের গঠনগত পরিবর্তনের অন্যতম ইঙ্গিত।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে প্রিয়জনদের আচরণের এই সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরি। এগুলোকে বার্ধক্যের স্বাভাবিক নিয়ম ভেবে অবহেলা না করে সময়মতো স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের (Neurologist) পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। অ্যালজাইমার্সের মতো জটিল ব্যাধিকে একদম শুরুতে চিহ্নিত করতে পারলে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে রোগটিকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাই আজই আপনার পরিবারের প্রবীণ সদস্যটির দিকে আর একটু বাড়তি নজর দিন!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *