কমিশনের অন্দরেই ‘বিদ্রোহ’! CEC জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি বিরোধীদের, সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি
জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অন্দরের তীব্র অসন্তোষ ও গুরুতর মতবিরোধের তথ্য সামনে আসতেই জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধনী বা ‘SIR’ (Special Intensive Revision) সংক্রান্ত একাধিক অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তির খবর চাউড় হতেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। জল গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ ও CEC-র পদত্যাগের দাবি পর্যন্ত।
কী উঠে এসেছে বিস্ফোরক রিপোর্টে?
একটি জাতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনের দুই কমিশনার— সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী— সর্বমোট অন্তত ১৪টি সিদ্ধান্ত নিয়ে লিখিত আপত্তি বা নথিভুক্ত ‘নোট’ দিয়েছিলেন। ভোটার তালিকা এবং ভোটাধিকার সংক্রান্ত সংবেদনশীল সিদ্ধান্তেই এই মতপার্থক্য তৈরি হয়।
আপত্তির মূল দু’টি জায়গা:
- Form 6 পরিবর্তনের আইনি বৈধতা: নতুন ভোটার নিবন্ধনের Form 6-এ SIR সম্পর্কিত নতুন শর্তাবলী যোগ করা হয়, যেখানে আবেদনকারীর পূর্বপুরুষদের নাম ভোটার তালিকায় ছিল কি না তা ঘোষণার ঘর রাখা হয়। মে মাসে কমিশনার বিবেক যোশী নোট দিয়ে জানান, আইন অনুযায়ী উপযুক্ত নিয়ম সংশোধন ছাড়া এই পরিবর্তন করা যায় না। পরবর্তীতে কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এই পদক্ষেপকে ‘অনুমোদিত নয়’ ও ‘বেআইনি’ বলে তা প্রত্যাহার করার দাবি জানান।
- ভোটার ডেটাবেসের কেন্দ্রীয়করণ: নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী ভোটার তালিকা তৈরির মূল দায়িত্ব স্থানীয় Electoral Registration Officer (ERO)-দের হাতে থাকে। কিন্তু কমিশনের নতুন পদক্ষেপে সমস্ত তথ্য ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় স্তরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, যা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন দুই কমিশনারই।
বিরোধীদের ক্ষোভ ও সোচ্চার দাবি:
রিপোর্টটি প্রকাশ্যে আসার পরেই নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও প্রশাসনিক স্বকীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধী নেতৃত্ব।
- সুপ্রিম কোর্টের নজরদারির দাবি: সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদব বলেন, একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ভেতরের এই অনিয়ম অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি শীর্ষ আদালতকে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।
- কপিল সিবালের তোপ: প্রবীণ আইনজীবী ও সাংসদ কপিল সিবাল বলেন, “এই রিপোর্টেই স্পষ্ট যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বেআইনিভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।” তিনি CEC জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা দাবি করেছেন।
- ‘অদৃশ্য হাত’-এর আশঙ্কা: কংগ্রেস সাংসদ মনীশ তিওয়ারি ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করে প্রশ্ন তোলেন— নির্বাচন কমিশনের ওপর কি কোনো বহিরাগত বা ‘অদৃশ্য হাত’ কাজ করছে?
- অন্যান্য প্রতিক্রিয়া: সিপিআই(এম) সাংসদ জন ব্রিটাস SIR প্রক্রিয়ার আইনি বৈধতা নিয়েই সওয়াল করেছেন। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের ডেরেক ও’ব্রায়েন CEC-কে অপসারণের প্রস্তাব পুনরায় সক্রিয় করার কথা বলেছেন।
কমিশনের পাল্টা সাফাই:
এই চরম বিতর্ক ও বিরোধীদের আক্রমণের মুখে নির্বাচন কমিশন সূত্র দাবি করেছে, কমিশনের নীতি অনুসারে কোনও সিদ্ধান্তই একতরফা নেওয়া হয়নি। SIR সংক্রান্ত সমস্ত চূড়ান্ত নির্দেশিকা জ্ঞানেশ কুমার, সান্ধু ও যোশী— তিনজনের সম্মতিতেই জারি হয়েছে। ফলে ওই আপত্তিগুলোকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ‘পৃথক মতাদর্শ’ (dissent) হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার নিজে এখনও কোনো সরাসরি প্রতিক্রিয়া দেননি।