‘কোলে তুলে নিতেন, বাথরুমে পিছু নিতেন প্রধান শিক্ষক!’ চাঞ্চল্যকর অভিযোগে উত্তাল বিহার

পাটনা: জামুইয়ের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও শ্লীলতাহানির মারাত্মক অভিযোগে নাম জড়াল বিহারের এক শিক্ষকের। এবার কাঠগড়ায় নবাডা জেলার আনন্দপুরার এক আপগ্রেডেড মিডল স্কুলের প্রধান শিক্ষক মহেশ প্রসাদ যাদব।
অষ্টম শ্রেণীর একাধিক ছাত্রীর অভিযোগ, স্কুলের প্রধান শিক্ষক দিনের পর দিন তাঁদের গালে হাত দিতেন এবং জোর করে কোলে তুলে নিতেন। শুধু তাই নয়, ছাত্রীরা শৌচাগারে গেলে তিনি পিছু নিতেন এবং উঁকি মারতেন বলেও পুলিশ ও পরিবারের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে।
ঘটনাটি জানাজানি হতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা স্কুলের সামনে তুমুল বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নগর থানার পুলিশ এবং ‘ডায়াল-১১২’-এর টিম। পরিস্থিতি সামাল দিতে এক মহিলা পুলিশ আধিকারিকের নেতৃত্বে বিশেষ দল স্কুলে গিয়ে পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলে এবং সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে।
অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলতেই প্রধান শিক্ষক মহেশ প্রসাদ যাদবকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। নবাডা জেলা পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ছাত্রীদের জবানবন্দি রেকর্ড করার পর জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অভিযুক্তকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এই ঘটনায় পকসো (POCSO) আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। নির্যাতিত ছাত্রীদের হাসপাতালে মেডিক্যাল টেস্ট করানোর পাশাপাশি আদালতে বয়ান রেকর্ড করানো হয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে নবাডার পুলিশ সুপার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের গতিপ্রকৃতি দেখেই পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।