‘একজনের কব্জায় পুরো কমিশন?’ জ্ঞানেশ কুমারের বরখাস্তের দাবি ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে শোরগোল

‘একজনের কব্জায় পুরো কমিশন?’ জ্ঞানেশ কুমারের বরখাস্তের দাবি ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে শোরগোল

নির্বাচন কমিশনের অন্দরের তীব্র মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসতেই জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে তাঁর অবিলম্বে অপসারণের দাবি জানিয়েছে বিরোধী দলগুলি। সেই সঙ্গে বিতর্কিত SIR (স্পেশাল সামারি রিভিশন) প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত করার দাবি তুলেছেন কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা পি চিদাম্বরম।

১০ মাসে ১৪ বার লিখিত আপত্তি! ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী কমিশনের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন।

  • কী কী বিষয়ে আপত্তি?
    • নতুন ভোটারদের জন্য ‘ফর্ম ৬’-এ SIR সংক্রান্ত নতুন তথ্য যোগ করা।
    • ভোটার তালিকার প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ আরও কেন্দ্রীভূত করা।
    • ভোটার তালিকার ডেটাবেসে রাজ্যস্তরের আধিকারিকদের প্রবেশাধিকার সংকুচিত করা।
    • দুই নির্বাচন কমিশনারের মতে, কমিশনের কিছু পদক্ষেপ ছিল সম্পূর্ণ ‘অবৈধ’ ও ‘বেআইনি’।

জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ দাবি বিরোধীদের কমিশনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল সামনে আসতেই সুর চড়িয়েছে বিরোধী শিবির:

  • সিপিআই(এম): রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিটাস দাবি করেছেন, নির্বাচন কমিশন বর্তমানে ‘একজনের নিয়ন্ত্রণে’ চলে যাচ্ছে। সংসদে জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু করার পাশাপাশি SIR ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি।
  • কংগ্রেস: জয়রাম রমেশ ও পবন খেরা অভিযোগ করেছেন, জ্ঞানেশ কুমার কমিশনের ‘বিশ্বাসযোগ্যতা ও সততা’ নষ্ট করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবি তোলা হয়েছে।
  • তৃণমূল কংগ্রেস: রাজ্যসভা সাংসদ সাগরিকা ঘোষের প্রশ্ন, নাগরিকদের ভোটাধিকার কাড়ার সিদ্ধান্ত কার নির্দেশে নেওয়া হচ্ছে? ভোটাধিকার সংক্রান্ত অব্যবস্থাপনার জন্য মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে জবাবদিহি করতে হবে।
  • আম আদমি পার্টি: আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ পুরো বিষয়টিতে বিরোধী দলগুলিকে একজোটে নির্বাচন কমিশনের কাছে দরবার করার আহ্বান জানিয়েছেন।

SIR বন্ধ ও সুপ্রিম কোর্টের নজরদারির দাবি প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পি চিদাম্বরম জানিয়েছেন, প্রকাশিত প্রতিবেদন সত্য হলে তা দেশের গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর স্পষ্ট দাবি, দেশজুড়ে চলা SIR প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং বিগত কয়েক বছরে নির্বাচন কমিশনের নেওয়া সমস্ত সিদ্ধান্ত সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে পরীক্ষা করা উচিত।

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে SIR প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাদ পড়া ২৭.১৬ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ২২.২১ লক্ষেরও বেশি মানুষ ফের নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করেছেন—যা ইতিপূর্বে সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে কমিশন নিজেই।

নির্বাচন কমিশনের পাল্টা সাফাই বিতর্কের মুখে নির্বাচন কমিশন সূত্রের দাবি, SIR-সহ কমিশনের সমস্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমেই নেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং ২০২৩ সালের আইন অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার সমমর্যাদার। সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত বা যৌথ সম্মতির ভিত্তিতেই যাবতীয় সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *