ধর্মীয় পুজো চলাকালীন তাণ্ডব! স্ত্রী ও ২ পুরোহিতকে খুন, সন্তানকে পণবন্দি করা ঘাতককে ওড়ালো পুলিশ

আজমগড়: উত্তরপ্রদেশের আজমগড়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলাকালীন এক নারকীয় হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী থাকল গোটা এলাকা। স্ত্রী ও দুই পুরোহিতকে প্রকাশ্যে গুলি করে খুন করার পর নিজের তিন সন্তানকে ঘরের ভিতর পণবন্দি করল এক ব্যক্তি। প্রায় ৭ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস নাটক ও পুলিশের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষের পর অবশেষে এনকাউন্টারে খতম হলো অভিযুক্ত অরবিন্দ। তবে মর্মান্তিক বিষয়, অভিযুক্তের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে তার নিজের পুঁচকে ছেলেও।
কী ঘটেছিল সেই রাতে? পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত অরবিন্দের আচরণ বেশ কিছুদিন ধরেই আক্রমণাত্মক ছিল। তার মা ও স্ত্রীর সন্দেহ হয়েছিল, অরবিন্দ কোনো ‘অশুভ আত্মার’ প্রভাবে রয়েছে। সেই ‘দোষ’ কাটাতেই বাড়িতে এক বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়, যেখানে যোগ দিতে এসেছিলেন ৫ জন পুরোহিত। কিন্তু অরবিন্দ এতে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পুজো চলাকালীন সে পুরোহিতদের অপমান করতে শুরু করলে স্ত্রী প্রতিবাদ জানান। তাতেই বচসা তুঙ্গে ওঠে এবং অরবিন্দ আগ্নেয়াস্ত্র বের করে প্রথমে স্ত্রীকে ও পরে দুই পুরোহিতকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে হত্যা করে। বাকি তিন পুরোহিত কোনোক্রমে প্রাণ বাঁচিয়ে পালান।
৭ ঘণ্টার পণবন্দি নাটক ও এনকাউন্টার: খুনের পর অরবিন্দ নিজের তিন সন্তানকে ঘরের ভিতর আটকে রাখে। খবর পেয়ে আজমগড়ের এসএসপি (SSP) ড. অনিল কুমার ও বারাণসী জোনের এডিজি (ADG) নবীন অরোরার নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও এসওজি (SOG) দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রথমে পুলিশ ও পরিবারের লোকজন মাইকে অরবিন্দকে আত্মসমর্পণের অনুরোধ জানায়। কিন্তু অরবিন্দ কথা না শুনে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর হুমকি দিতে থাকে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন ঘরের ভেতর অরবিন্দ নিজের ছেলেই গুলি চালিয়ে দেয়। শিশুদের বাঁচাতে আর দেরি না করে পুলিশ দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকার সিদ্ধান্ত নেয়। কাঁদুনে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ছুড়ে ঘরে ঢুকতেই অরবিন্দ পুলিশকে লক্ষ্য করে অন্ধের মতো গুলি চালাতে শুরু করে। আত্মরক্ষায় ও বাকি শিশুদের প্রাণ বাঁচাতে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়।
হাসপাতালে মৃত্যু: ঘর থেকে দ্রুত তিন শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অভিযুক্তের ছেলের মৃত্যু হয় এবং আতঙ্কিত দুই মেয়েকে আশঙ্কাজনক অবস্থা থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। অন্যদিকে, পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত অরবিন্দকেও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ডাক্তাররা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।