পুজোর আগেই বড় স্বস্তি বনকর্মীদের! বকেয়া বেতন মেটানোর নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

পুজোর আগেই বড় স্বস্তি বনকর্মীদের! বকেয়া বেতন মেটানোর নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

উৎসবের মুখে বড় খবর বন দপ্তরের অস্থায়ী তথা ‘ডেলি লেবার’ (DL) কর্মীদের জন্য। টানা প্রায় তিন মাস বকেয়া থাকা বেতন দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার জন্য বিশেষ নির্দেশ দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। রবিবারের এই সিদ্ধান্তের পর মুখে হাসি ফুটেছে রাজ্যজুড়ে কর্মরত প্রায় ৬ হাজার বনকর্মীর।

রাজ্যের একাধিক ফরেস্ট ডিভিশনে টানা জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসের বেতন বকেয়া ছিল। এর ফলে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন কর্মীরা—কারও সন্তানের পড়াশোনা বন্ধের মুখে, তো কারও বৃদ্ধ মা-বাবার ওষুধের টাকা জোটাতে মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিতে হচ্ছিল। এই দুরবস্থার কথা সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরার পরেই দ্রুত তৎপর হয় প্রশাসন।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর রবিবাবেই রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ‘ওয়েজ হেড’ ফান্ডে প্রয়োজনীয় অর্থ রিলিজ করা শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, ফান্ডের ৫০ শতাংশের বেশি টাকা ইতিমধ্য়েই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পৌঁছে গিয়েছে। সোমবার অরণ্য ভবন থেকে বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

দাবি ও ক্ষোভের আবহে স্বস্তি রাজ্যের বন দপ্তরের মোট কর্মচারীর প্রায় ৭০ শতাংশই এই অস্থায়ী কর্মী। কুনকি হাতির দেখভাল থেকে শুরু করে লোকালয়ে হাতি বা চিতা বাঘ তাড়ানোর মতো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয় তাঁদের। অথচ অভিযোগ ছিল, দীর্ঘদিন ধরে মাসে ৩০ দিন কাজ করিয়ে ১৯ দিনের বেতন দেওয়া হতো, তার ওপর তিন মাস ধরে বকেয়া ছিল টাকা।

দাবিদাওয়া ও স্থায়ীকরণের দাবিতে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর কলকাতার অরণ্য ভবনে ডেপুটেশন ও ‘কলকাতা চলো’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গের একজোট হওয়া কর্মীরা। তবে বকেয়া টাকা মেলার খবরে আপাতত বড় স্বস্তি এল জঙ্গলমহল থেকে উত্তরবঙ্গের পরিবারগুলিতে। ঝাড়গ্রামের এক কর্মী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান, চার মাস পর বেতন পেলে অন্তত পক্ষাঘাতগ্রস্ত মায়ের ওষুধ ও সংসারের ঋণ মেটানো সম্ভব হবে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয় বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ বলেন, “আমাদের সরকার অত্যন্ত সংবেদনশীল ও মানবিক। বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গেই ফান্ড রিলিজ করা হয়েছে। সবাই যাতে পুজোয় আনন্দে থাকতে পারে, সরকার সেটাই চায়। অতীতে ভুল নীতি ও লুটপাটের কারণেই এ ধরনের জট তৈরি হয়েছিল, তবে আগামীতে যাতে এমন পরিস্থিতি না তৈরি হয় সে বিষয়ে আমরা সজাগ।”

অন্য দিকে জঙ্গলমহল স্বরাজ মোর্চার সভাপতি অশোক মাহাতো জানান, জীবন বাজি রেখে কাজ করা এই কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে শোষণের শিকার হচ্ছিলেন। অবশেষে সরকারি নির্দেশে সমস্যার আশু সমাধান হওয়ায় স্বস্তির হাওয়া বনাঞ্চলজুড়ে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *