‘জয় শ্রীরাম’ বনাম ‘গো ব্যাক’ স্লোগান, গভীর রাতেও থমথমে SRFTI! আটকে বহু ছাত্র-শিক্ষক

‘জয় শ্রীরাম’ বনাম ‘গো ব্যাক’ স্লোগান, গভীর রাতেও থমথমে SRFTI! আটকে বহু ছাত্র-শিক্ষক

কলকাতা: কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI)-এ রবিবার দুপুরে মারাত্মক সংঘর্ষ ও তাণ্ডবের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্য ছড়ালো। ক্যাম্পাসের মেইন থিয়েটার হল ভাড়া নিয়ে আরএসএস (RSS)-এর শাখা সংগঠন ‘অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত’ (ABGP)-এর একটি সভাকে কেন্দ্র করে গণ্ডগোলের সূত্রপাত। ঘটনার জেরে রক্তাক্ত হয়েছেন বহু শিক্ষার্থী, এমনকি বাদ যাননি প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপকরাও। আহত অবস্থায় অন্তত ১৫ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

কীভাবে ছড়ালো হিংসা? সূত্রের খবর, রবিবার দুপুর ১২টা নাগাদ এবিজিপি-র সভা শুরু হওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন ছাত্র শুটিং চলাকালীন উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বচসায় জড়ান। পরবর্তীতে দুপুর ২টো নাগাদ ছাত্র সংসদের প্রতিনিধিরা সভাগৃহের সামনে গিয়ে ইনস্টিটিউটে রাজনৈতিক সংগঠনের সভার অনুমতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং পোস্টার সাঁটতে যান। অভিযোগ, সেখান থেকেই দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।

ছাত্রদের দাবি, বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে ঢুকে অতর্কিতে হামলা চালায়। বহু ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি করা হয়, জামা ছিঁড়ে দেওয়া হয় এবং এক ছাত্রীকে ছুরিকাঘাত করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকি বহিরাগতরা লাইব্রেরিতে ঢুকে পড়ুয়া ও লাইব্রেরিয়ানকেও মারধর করে।

পাল্টা অভিযোগ এবিজিপি-র: অন্যদিকে, এবিজিপি-র রাজ্য সভাপতি পঙ্কজ রায় অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তারা ৩২ হাজার টাকা দিয়ে বৈধভাবে হল বুক করেছিলেন। তাঁর দাবি, “সভার কাজ শুরুর আগেই একদল ছাত্র এবং কয়েকজন শিক্ষক উস্কানিমূলকভাবে স্টেজে উঠে সভা ভণ্ডুল করার চেষ্টা করে। সভার মহিলা ও শিশুদের ওপর আক্রমণ চালানো হয় এবং ‘ভারত মাতা’-র ছবি ছিঁড়ে ফেলা হয়।” এই ঘটনার বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি।

ক্যাম্পাসের বাইরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: ঘটনার রেশ ছড়িয়ে পড়ে ক্যাম্পাসের বাইরেও। ইনস্টিটিউটের বাইরে বিপুল জনতা জমাট বাঁধে এবং ‘জয় শ্রীরাম’ ও ‘পাকিস্তানি দূর হটো’ স্লোগান তুলতে থাকে। অভিযোগ, বাইর থেকে ক্যাম্পাসের ভেতরে বোতল ও পাথর ছোড়া হয় এবং আহতদের নিয়ে যেতে আসা অ্যাম্বুল্যান্সকেও বাধা দেওয়া হয়। রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি। বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা অভিযোগ করে বলেন, “বাম-তৃণমূল পরিকল্পনা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।” অন্যদিকে সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর পালটা দাবি, “আরএসএস বহিরাগত এনে জোর করে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক দখলদারি করার চেষ্টা করছিল, যার জেরে এই রক্তপাত।”

বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ, সৃজিত মুখোপাধ্যায় এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্যামেরা ব্যক্তিত্ব মধুরা পালিত সোশ্যাল মিডিয়ায় এই হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গভীর রাতে ক্যাম্পাসে পৌঁছান নবনিযুক্ত ভিসি সন্তোষ আজমেরা। প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, যাদবপুর, প্রেসিডেন্সি ও পুনে এফটিআই-তে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *