দুর্গাপুজোর ভুয়ো পাস বিক্রির অভিযোগে তোলপাড়! প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে ED হানায় চাঞ্চল্য

কলকাতা: দুর্গাপুজোর নাম করে ভুয়ো পাস বেচে কোটি কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ! তদন্তে নেমে এবার শহরের একাধিক প্রভাবশালী স্থানে জোরকদমে হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। মঙ্গলবার সকালেই প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা ইন্দ্রনীল সেনের কসবার বাসভবনে পৌঁছে যান কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা।
কীসের এই দুর্নীতির অভিযোগ? অভিযোগের মূল কেন্দ্রবিন্দু দুর্গাপুজোর ভুয়ো পাস এবং টিকিটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার বেআইনি লেনদেন। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, কলকাতার দুর্গাপুজোর নাম ভাঙিয়ে ভুয়ো টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, প্রচারের উদ্দেশ্যে বেআইনিভাবে ইউনেস্কোর (UNESCO) নাম ও লোগো ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। বউবাজার থানায় ইন্দ্রনীল সেন ও ‘মাস আর্ট’ নামক একটি সংস্থার বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআরের (FIR) ওপর ভিত্তি করেই মাঠে নেমেছে ইডি।
একযোগে ১৫ জায়গায় তল্লাশি: মঙ্গলবার সকাল থেকে কলকাতার শুধু কসবাই নয়, মোট ১৫টি এলাকায় একযোগে অভিযানে নামেন কেন্দ্রীয় আধিকারিকরা।
- যেসব এলাকায় তল্লাশি: কসবা, হিন্দুস্তান পার্ক, হাইল্যান্ড পার্ক সহ একাধিক এলাকা।
- অন্যান্য স্থান: সাবেক মন্ত্রীর আত্মীয়ের বাড়ি এবং দুর্গাপুজোর ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত এক ব্যবসায়ীর ডেরাতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
৫০ থেকে ৬০ কোটির মহাতছরুপের আশঙ্কা: উল্লেখ্য, ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর হেরিটেজ স্বীকৃতি পাওয়ার পরই একটি সংগঠন নিজেদের এই উৎসবের ‘অফিসিয়াল পার্টনার’ দাবি করে আসছিল। কোনো রকম লিখিত অনুমতি ছাড়াই ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে তারা ভিআইপি ও ভিজিটরস পাস বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা তোলে। প্রাথমিক অনুমান, প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার প্রতারণা বা আর্থিক কারচুপি ঘটে থাকতে পারে। তদন্তকারীরা এই পুরো আর্থিক লেনদেনের মূল উৎস ও কারচুপি খতিয়ে দেখতে জোর তল্লাশি চালাচ্ছেন।