চাপের মুখে কীভাবে মাথা ঠান্ডা রাখেন কোহলি? কিং বিরাটের ফিটনেস নিয়ে অবাক করা বৈজ্ঞানিক তথ্য!

কলকাতা: বয়স ৩৭ ছুঁইছুঁই, অথচ মাঠে তাঁর চিতার মতো ক্ষিপ্রতা আর বডি ল্যাঙ্গুয়েজে বিন্দুমাত্র ক্লান্তি নেই। ৫০ ওভার ফিল্ডিং করার পরও নিখুঁত ছন্দে ব্যাটিং করে ম্যাচ জিতিয়ে ফেরেন বিরাট কোহলি। কিন্তু কঠিন ও চাপের পরিস্থিতিতে ঠিক কীভাবে নিজের মাথা এতটা ঠান্ডা রাখেন ‘চেজ মাস্টার’? সম্প্রতি নিজের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে মুখ খুলেছেন বিরাট। তাঁর মতে, শারীরিকভাবে ১০০ শতাংশ ফিট থাকলে মুক্ত মনে ম্যাচ কল্পনা করা এবং সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সহজ হয়।
বিরাটের এই মন্তব্যের পরই প্রশ্ন উঠছে— শারীরিক ফিটনেস কি সত্যি মস্তিষ্কের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ায়? চিকিৎসাবিজ্ঞান কী বলছে?
বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা ও বিশেষজ্ঞদের মতামত: গবেষণা সংস্থা Centre for Chronic Disease Control-এর ডেপুটি ডিরেক্টর ড. শিফালিকা গোয়েঙ্কার মতে, নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তার সঙ্গে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা সরাসরি যুক্ত।
- এক্সিকিউটিভ ডিসিশন মেকিং (Executive Decision-Making): খেলাধুলোর ক্ষেত্রে পলক ফেলার মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। যেমন— বলের গতি ও টার্ন মেপে কোন শট খেলা হবে, তা সেকেন্ডের ভগ্নাংশে ঠিক করতে হয়। নিয়মিত ফিটনেস ট্রেনিং মস্তিষ্ক ও শরীরের এই যোগাযোগের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
- কম স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণ: গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা শারীরিকভাবে নিয়মিত সক্রিয় থাকেন, অত্যন্ত চাপের মুখেও তাঁদের শরীরে স্ট্রেস হরমোন তুলনামূলক কম নিঃসৃত হয়।
- নিয়ন্ত্রিত হৃদস্পন্দন: কঠিন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের হৃদস্পন্দন লাফিয়ে বাড়লেও, ফিট অ্যাথলিটদের হার্ট রেট বা হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক ও শান্ত থাকে।
সহজ কথায়, বিরাট কোহলির এই অতিমানবীয় ফিটনেস কেবল তাঁর পেশির জোর বাড়ায় না, বরং চাপের মুখেও মস্তিষ্কের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে প্রখর এবং মনকে একদম শান্ত রাখতে সাহায্য করে।