প্যানিক অ্যাটাক নাকি হার্ট অ্যাটাক? চেনার সহজ উপায় ও চিকিৎসকদের বড় পরামর্শ!

প্যানিক অ্যাটাক নাকি হার্ট অ্যাটাক? চেনার সহজ উপায় ও চিকিৎসকদের বড় পরামর্শ!

হঠাৎ বুক ধড়ফড়ানি, শরীরে কসরত না করেও ঘাম আর তীব্র শ্বাসকষ্ট — প্রতিদিনের জীবনে এই ধরনের উপসর্গ দেখে অনেকেই প্যানিক অ্যাটাক ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু এই অবহেলাই ডেকে আনতে পারে অকাল মৃত্যু। ‘ওয়ার্ল্ড হার্ট ডে’ উপলক্ষে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, প্যানিক অ্যাটাক ও হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণে অনেক মিল থাকলেও সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াই জীবন বাঁচাতে পারে।

প্যানিক অ্যাটাক ও হার্ট অ্যাটাকের তফাৎ কীভাবে বুঝবেন? বিশেষজ্ঞ কার্ডিয়োলজিস্টদের মতে:

  • প্যানিক অ্যাটাক: কোনো নির্দিষ্ট বিষয় ট্রিগার করলে মানসিক অস্বস্তির কারণে প্যানিক অ্যাটাক হয়। এতে বুক ধড়ফড়ানি, কাঁপুনি ও ঘাম বেশি দেখা যায়। কিছুক্ষণ শান্ত হয়ে বসলে বা বিশ্রাম নিলে উপসর্গগুলো কমতে শুরু করে।
  • হার্ট অ্যাটাক: এটি কোনো পূর্ব সতর্কবার্তা বা ট্রিগার ছাড়াই হতে পারে। এতে বুক ধড়ফড়ানির চেয়ে বুকে তীব্র চাপ, অস্বস্তি, চোয়াল বা বাঁ হাতে অসহ্য ব্যথা এবং তীব্র শ্বাসকষ্ট প্রাধান্য পায়। বিশ্রাম নিলেও ব্যথা কমে না। হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে প্রথম ১ ঘণ্টা সময়কে ‘গোল্ডেন আওয়ার’ বলা হয়, তাই বিলম্ব না করে হাসপাতালে পৌঁছানো জরুরি।

মানসিক চাপ কীভাবে ডেকে আনছে হৃদরোগ? ক্রনিক বা দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেস রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় এবং হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে। ক্রমাগত মানসিক চাপ হার্টের ধমনীতে জমে থাকা ‘কোলেস্টেরল প্লাক’ ফাটিয়ে দিতে পারে, যা আচমকা হার্ট অ্যাটাক বা হার্ট ফেলিয়রের মূল কারণ।

শরীরচর্চার সময়ে সাবধান! জিম বা শরীরচর্চার সময়ে হৃদস্পন্দন বাড়া স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। ব্যায়াম থামানোর পর স্পন্দন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে যাওয়া উচিত। কিন্তু ওয়ার্কআউটের সময়ে যদি বুক ব্যাথার সাথে মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি আসে, তবে তা ‘অ্যারিদমিয়া’ (অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন)-র লক্ষণ হতে পারে।

মনে রাখা জরুরি: অনেক সময়েই হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক লক্ষণকে সাধারণ গ্যাস-অম্বল ভেবে অবহেলা করা হয়। বুকে বা বাঁ হাতে অস্বস্তি হলে সামান্যতম লক্ষণকেও হালকাভাবে না নিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *