নন্দীগ্রামে ভোটের আগেই ‘বড় জয়’ বিজেপির! হাসিরানি রথের মনোনয়ন মামলা খারিজ করল হাই কোর্ট

নন্দীগ্রাম: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের ঢালকাটা লড়াইয়ের মুখেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল বিজেপি শিবির। বিজেপির তারকা প্রার্থী হাসিরানি রথের মনোনয়ন বাতিল করার আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দরজায় কড়া নেড়েছিল কংগ্রেস। কিন্তু মঙ্গলবার সেই আবেদন স্রেফ খারিজ করে দিল আদালত। ফলে ভোটযুদ্ধের আগে বড়সড় আইনি ধাক্কা সামলে ময়দানে পুরোপুরি মুক্ত হাসিরানি।
ঠিক কী নিয়ে বিতর্ক জমে উঠেছিল? ঘটনার সূত্রপাত হাসিরানি রথের দেওয়া নির্বাচনী হলফনামা কেন্দ্র করে। কংগ্রেসের অভিযোগ ছিল, হলফনামায় তাঁর জন্ম সাল লেখা হয়েছে ‘প্রায় ১৯৬৫’। আবার ওই একই নথিতে উল্লেখ রয়েছে, ১৯৬৫ সালেই তিনি চৌখালী গঙ্গা পদ্মা মিলন কন্যা বিদ্যাপীঠে দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছিলেন! এই তথ্যের অসঙ্গতি তুলে ধরেই আদালতে মামলা ঠোকে কংগ্রেস। তাদের যুক্তি ছিল, যদি জন্ম সাল ১৯৬৫ হয়, তবে সেই একই বছরে কেউ কীভাবে দশম শ্রেণিতে পড়তে পারেন?
শুধু তা-ই নয়, স্কুলের প্রতিষ্ঠা সাল নিয়েও প্রশ্ন তোলে কংগ্রেস নেতৃত্ব। তাদের দাবি, ওই স্কুলটি ১৯৬৩ সালে চালু হয়েছিল এবং তখন কেবল পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্তই পড়ার সুযোগ ছিল। ১৯৭৩ সালে সরকারি অনুমোদন পাওয়ার পরই সেখানে দশম শ্রেণি চালু হয়।
আদালতে দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব কংগ্রেসের আইনজীবীরা হাই কোর্টে দাবি করেন, মাধ্যমিকের সার্টিফিকেটের সঙ্গে হলফনামার তথ্যের চরম গরমিল রয়েছে। হয় বয়স ভুল দেওয়া হয়েছে, না হয় জমা করা নথিই ভুয়া। এমন পরিস্থিতিতে রিটার্নিং অফিসার কেন আগেভাগে এই মনোনয়ন বাতিল করলেন না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে কংগ্রেস।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী পাল্টা যুক্তি দিয়ে জানান, যখন মনোনয়নপত্র যাচাই (Scrutiny) করা হচ্ছিল, তখন কংগ্রেস এই বিতর্কিত বিষয়টি কেন কমিশনের নজরে আনেনি? শেষ মুহূর্তে এই আর্জি আদৌ গ্রহণযোগ্য কি না, তা নিয়েও কমিশন প্রশ্ন তোলে।
আদালতের চূড়ান্ত রায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর রায় স্থগিত রেখেছিলেন বিচারপতি কৃষ্ণ রাও। অবশেষে মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গেল বেঞ্চের তরফ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, কংগ্রেসের এই আবেদন খারিজ করা হলো। আদালত হাসিরানি রথের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় কোনো রকম হস্তক্ষেপ করতে চায় না।
আদালতের এই রায়ের পর স্পষ্ট যে, নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে লড়তে হাসিরানি রথের আর কোনো আইনি বাধা রইল না।