AI ভিডিও-র ফাঁদে অশান্ত উজ্জয়িনী! ২০ জনের বিরুদ্ধে FIR, নজর ১০০ ইনস্টা অ্যাকাউন্টে

AI ভিডিও-র ফাঁদে অশান্ত উজ্জয়িনী! ২০ জনের বিরুদ্ধে FIR, নজর ১০০ ইনস্টা অ্যাকাউন্টে

উজ্জয়িনী: মধ্যপ্রদেশের ইতিহাসপ্রসিদ্ধ শহর উজ্জয়িনীতে সাম্প্রতিক হিংসার নেপথ্যে উঠে এল এআই (AI) প্রযুক্তির মারাত্মক অপব্যবহারের ছবি! পুলিশের দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি একাধিক ভুয়ো ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক অশান্তি বাঁধানোর চেষ্টা চালানো হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৮ সালের ‘সিমহাস্থ কুম্ভ মেলা’র প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে। কান্থাল চৌরাস্তা থেকে গোপাল মন্দির পর্যন্ত ৯০০ মিটার দীর্ঘ পথ ১৫ মিটার চওড়া করার উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এই প্রকল্পের আওতায় ২৭২টি ভবন এবং একটি স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কিছু অংশ রাস্তার মধ্যে পড়ে। প্রশাসনের দাবি, কর্তৃপক্ষ ও ধর্মীয় প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করেই সেই নির্দিষ্ট অংশটি সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

এমনকি উজ্জয়িনীর শেহর কাজি খলিল-উর-রহমানও জানিয়েছেন, প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি ইতিমধ্যেই শান্তিপূর্ণভাবে মিটে গিয়েছিল। কিন্তু গোলমাল বাঁধায় কিছু ভুয়ো সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট।

অভিযোগ, AI প্রযুক্তি ব্যবহার করে এডিটিংয়ের মাধ্যমে দেখানো হয় যে সম্পূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটিকেই নাকি গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে! এই ভুয়ো ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই চরম উত্তেজনা ছড়ায়। রবিবার রাতে ঘটনাস্থলে ভিড় জমান বহু মানুষ। সোমবার সকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোড়া হয়। এরপরই কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটিয়ে এবং লাঠিচার্জ করে ক্ষিপ্ত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে পুলিশ। বর্তমানে এলাকায় অন্তত আড়াই হাজার পুলিশ ও র‍্যাফ (RAF) মোতায়েন রয়েছে।

এই ঘটনায় পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে:

  • ইতিমধ্যেই তিনটি থানায় ৮টি FIR দায়ের হয়েছে।
  • ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫ জন সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর।
  • ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
  • পুলিশের নজরে রয়েছে ১০০-রও বেশি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট।

উজ্জয়িনীর পুলিশ সুপার প্রদীপ শর্মা জানিয়েছেন, ড্রোন ও সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পাথর ছোড়ায় যুক্ত অপরাধীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি, অশান্তি ছড়ানো এই AI ভিডিওগুলির মূল উৎস কারা এবং প্রথম কোথায় এটি পোস্ট করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে সাইবার সেল তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ ও ধর্মীয় প্রধানেরা সাধারণ মানুষকে কোনও ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *