নির্বাচন কমিশনে গৃহযুদ্ধ! প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা, হতে পারে জরুরি শুনানি

নির্বাচন কমিশনে গৃহযুদ্ধ! প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা, হতে পারে জরুরি শুনানি

নয়াদিল্লি: নির্বাচন কমিশনের অন্দরের বিতর্ক ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে জল অনেক দূর গড়াল। এবার কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দায়ের হওয়া আবেদনের জরুরি ভিত্তিতে শুনানিতে সায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ আগামী সপ্তাহে মামলাটি শুনবে।

মঙ্গলবার প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ সিং সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন একটি বহুসদস্যের সাংবিধানিক সংস্থা। ফলে কমিশনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে অথবা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে হওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু বর্তমানে কমিশনের সিদ্ধান্তগুলো আদৌ সর্বসম্মত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

কমিশনের অন্দরে দ্বন্দ্বে শোরগোল: সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত ১০ মাসে ভোটার তালিকা, Form 6, কমিশনের IT ব্যবস্থা এবং ডেটাবেস সংরক্ষণসহ অন্তত ১৪টি বিষয়ে লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী। তাঁদের আপত্তি উপেক্ষা করেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার একপেশে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ২০২৬ সালের মে মাসে ভোটার ডেটাবেসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার স্বার্থে বিশেষ অডিটের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন কমিশনার যোশী, যাতে সায় দিয়েছিলেন সান্ধুও।

অভিযোগ উড়িয়ে কমিশনের বক্তব্য: বিতর্ক তুঙ্গে উঠতেই অবশ্য সাফাই দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এক বিবৃতিতে কমিশন দাবি করেছে, গণতান্ত্রিক সংস্থায় আলোচনার সময় মতপার্থক্য তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে সব চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিন সদস্যের সর্বসম্মত অনুমোদনেই নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে শুরু হওয়া ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার সব সিদ্ধান্তই সর্বসম্মত ছিল।

সুপ্রিম কোর্টে জোড়া চাপ: অন্য একটি আবেদনের মাধ্যমে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘একক কর্তৃত্ব’ ফলানোর অভিযোগ তুলে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বাধীন স্বাধীন তদন্তকারী দলের (SIT) দাবি জানানো হয়েছে।

পাশাপাশি ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইনকে চ্যালেঞ্জ করে চলা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চের মন্তব্য ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ জানান, “নির্বাচন কমিশনকে কেবল কাগজ-কলমে স্বাধীন হলে চলবে না, বাস্তব ক্ষেত্রেও সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করে দেখাতে হবে।”

এখন আগামী সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে এই জরুরি মামলার শুনানির দিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *