‘গান গাওয়ার প্যাকেট থেকেও টাকা কাটত!’ ইডি-হানার দিনেই বিস্ফোরক মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রীর

‘গান গাওয়ার প্যাকেট থেকেও টাকা কাটত!’ ইডি-হানার দিনেই বিস্ফোরক মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রীর

কসবার বাসভবনসহ ১৫টি ঠিকানায় ইডি-হানা দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’-এর পাস বিক্রির নামে কোটি কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে প্রাক্তন মন্ত্রী তথা জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেনের কসবার বাসভবন-সহ মোট ১৫টি ঠিকানায় দিনভর তল্লাশি অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি।

‘গান গাওয়ার প্যাকেট থেকেও টাকা বার করত!’ ইডির তল্লাশি অভিযান চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে একটি সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “গান গাওয়ার প্যাকেট থেকেও টাকা বার করত।” ঘটনাচক্রে, এর আগে ‘জনতার দরবার’-এ সঙ্গীতশিল্পী ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়ও ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, সরকারি অনুষ্ঠানে সুযোগ পাওয়ার বিনিময়ে ইন্দ্রনীলকে কাটমানি দিতে হত। পরবর্তীতে নবনিযুক্ত তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তীও ইন্দ্রনীলের ব্যবহৃত চেয়ারে বসতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তাঁর আমলের নানা কাজের কড়া সমালোচনা করেন।

বাম ঘনিষ্ঠতা থেকে তৃণমূলের মন্ত্রীত্ব নয়ের দশকে বামপন্থী নেতাদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ইন্দ্রনীল সেন ২০১১ সালে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তৃণমূলে যোগ দেন। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে অধীর চৌধুরীর কাছে পরাজিত হলেও ২০১৬ ও ২০২১ সালে চন্দননগর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে রাজ্যের মন্ত্রী হন। এক সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি।

ইউনেস্কোর ভুয়ো নাম ভাঙিয়ে ৬০ কোটির দুর্নীতি? তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, কলকাতার ২৪টি প্রথম সারির পুজো মণ্ডপকে ইউনেস্কো বিশেষভাবে নির্বাচন করেছে—এমন মিথ্যা দাবি করে ‘প্রিভিউ শো’-এর পাস চড়া দামে (১৭৪৯ টাকা থেকে ৫৪৯৯ টাকা) বিক্রি করা হয়েছে। এভাবে পুজো পরিক্রমার নামে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার প্রতারণা চালানো হয়।

এফআইআর থেকে ইডি তদন্ত ২০২১ সালে দুর্গাপুজো হেরিটেজ স্বীকৃতি পাওয়ার পরপরই তৈরি হয় ‘মাস আর্ট’ নামের একটি সংস্থা, যার সঙ্গে ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মধুছন্দা সেন যুক্ত ছিলেন। কোনো অনুমতি ছাড়াই তারা ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করেছিল। নথিসূত্রে জানা যায়, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে লক্ষাধিক মানুষ এই পাস সংগ্রহের জন্য নাম নথিভুক্ত করেছিলেন। জালিয়াতির প্রমাণ মিলতেই গত জুন মাসে বৌবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের হয় এবং পরবর্তীতে তদন্তভার হাতে নেয় ইডি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *